রোজদিন ডেস্ক :
তিনি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন আই প্যাকের (I Pack Case) কার্যালয়ে গিয়ে ইডি (ED)-র তল্লাশি তে বাধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ নিয়ে দেশব্যাপী আলোড়ন উঠেছিল। ইডি এই বিষয়ে সিবিআই তদন্তের দাবিতে মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে আদালতে যায়। আজ শীর্ষ আদালতে সেই মামলার শুনানিতেও ইডি-র আইনজীবী সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় ছিলেন।
শীর্ষ আদালতের বিচারপতি প্রশান্ত মিশ্র ও বিচারপতি এন ভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চ এই বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের ওপরে ছেড়ে দেওয়া যায় কিনা জানতে চান।
উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি এই ঘটনার পর রাজ্যে মে মাসে পালাবদল হয়েছে।
শীর্ষ আদালতে মমতা ব্যানার্জির আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদল হয়েছে। এই ঘটনারকে তদন্ত করবে রাজ্য সরকার নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই ক্ষেত্রে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।
বিচারপতি প্রশান্ত মিশ্র তখন বিষয়টি রাজ্য সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে ইডি-র আইনজীবী এস ভি রাজু তীব্র আপত্তি জানান।
সিবিআইয়ের আইনজীবী তথা কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাও এই বিষয়ে শীর্ষ আদালতকেই সিদ্ধান্ত নিতে বলেন। তাঁর বক্তব্য, কেউ যেন রাজনৈতিক কারণে এই মামলা সিবিআই-কে দেওয়া হচ্ছে এই কথা বলতে না পারেন।
ইডি-র আইনজীবী এই মামলা সিবিআই-কে দেওয়ার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন।
শীর্ষ আদালতের দুই বিচারপতি সব পক্ষের সওয়াল শুনে জানান, আগামী ২ সেপ্টেম্বর এই মামলার শুনানি হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৮ জানুয়ারি ইডি আই প্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে কয়লা পাচার মামলার তদন্তে অভিযান করে।
তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে সটান প্রতীক জৈনের বাড়ি চলে যান। দাবি করেন আই প্যাক তাঁদের সংস্থা। সামনেই তখন বিধানসভা নির্বাচন। ইডি তাঁদের দলের নথি, রাজনৈতিক কৌশল চুরি করতে এসেছে।
তিনি নিজে সবার সামনে বেশ কিছু নথি নিয়ে চলেও আসেন।
এই ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় ওঠে। অপমানিত ইডি আধিকারিকরা পালটা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নথি চুরির অভিযোগ এনে আদালতে যান। সিবিআই তদন্তের দাবি করেন। সেই দাবিতেই তাঁরা আজও অনড় ছিলেন।

Be the first to comment