কলকাতা সিনেফেস্ট ডায়েরি : ১০ নভেম্বর

Spread the love

সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার কাজের দিন হলেও নন্দন-রবীন্দ্রসদন চত্বরে সিনেমাপ্রেমীদের উপস্থিতির হার যে খুব একটা কম ছিল তা বলা যাবে না। ছুটির দিন বা শনি-রবি বারের মতো ভীড় না থাকলেও উৎসাহে ভাটা ছিল না। কিন্তু চলচ্চিত্র উৎসবের উঠোনে সিনেমাপ্রেমের মাঝেই একটি অনভিপ্রেত খবরে খুবই অবাক হলাম। এদিন নন্দনের অধিকর্তা শর্মিষ্ঠা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ফেস্টিভ্যালের কোঅর্ডিনেটর প্রদীপকুমার সরকার সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, তাঁদের হাতে প্রতিদিন ভুয়ো কার্ড ধরা পড়ছে। কে, কী উদ্দেশ্যে, কেন এই ভুয়ো কার্ড জাল করছেন এবং ছড়িয়ে দিচ্ছেন, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না কিন্তু ইতিমধ্যে ৩৫৭টি ভুয়ো কার্ড ধরা পড়েছে। কর্তৃপক্ষ পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে । প্রসঙ্গত, কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবি দেখার জন্য কোনো পয়সা খরচা করতে হয় না। যারা কার্ড পান না তাদের জন্যও প্রত্যেকদিন প্রতিটি হল থেকে প্রতিটি শো-এর ফ্রি পাস বিলি করা হয়। যে কেউ সেই ফ্রি পাশ নিয়ে অথবা যাদের কাছে কার্ড আছে তারা সেই কার্ড নিয়ে সিনেমা দেখতে পারেন। তাহলে জাল বা ভুয়ো কার্ড কেন? ডেলিগেট বা প্রেস অথবা গেস্ট কার্ড গলায় ঝোলাতে হবে বলে? কারণ যাই হোক, এটা ভাবনার বাইরে ছিল। সিনেমা উৎসবের এই কটা দিন নন্দন-রবীন্দ্রসদন ঘিরে কলকাতা শহর কার্যত চাঁদের হাটে পরিণত হয়। বিদেশি অতিথি থেকে পাশাপাশি দেশের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বরাও থাকেন। সাংবাদিক সম্মেলন, সিনে আড্ডা, আলোচনা ইত্যাদির মধ্যে এমন কিছু যে ঘটতে পারে সেকথা কি কেঊ ভেবেছিলেন? নিশ্চয় ভেবেছিলেন, তা না হলে এমনটা হল কীভাবে।
সোমবার নন্দন এক-এ দুপুর ২টোয় দেখানো হয় ‘ইভ্যাকুয়েশন’, কাজাকিস্তানের এই ছবিটির পরিচালক ফারখাত শারপভ। ছবিটিতে নাৎসি দখলের ঝুঁকিতে থাকা সোভিয়েত ইউনিয়নের অঞ্চলগুলি থেকে দেশের পূর্বাঞ্চলে লোকদের সরিয়ে নেওয়ার উপর আলোকপাত করা হয়েছে। সেই সময়ে কাজাখস্তানে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন লোক এসেছিল এবং এখনও তাদের অনেকেরই আবাসস্থল। ছবির দুই নায়ক মা নাতালিয়া আর তাঁর মেয়ে গালিয়া, সব উদ্বাস্তু পূর্ব দিকে চলে যান। রেলওয়ে স্টেশনে বিশৃঙ্খলার মধ্যে নাতালিয়া তাঁর মেয়েকে হারিয়ে ফেলেন এবং তাকে খুঁজতে আলমাটিতে যান, সেখানেও উদ্বাস্তুদের ভীড়। জীবন বাঁচানোর মূল এই বিষয়টিকেই দর্শক দেখতে থাকেন, সরাসরি ঘটনার ঘূর্ণির মধ্যে থেকেই বুঝতে পারেন যে একজনকে বাঁচানোর প্রক্রিয়ায় কতজন লোক জড়িত।
এদিন বিকেল সাড়ে চারটেতে ছিল কেন্ট জোন্স পরিচালিত মার্কিন ছবি ‘লেট ফেম’। এড স্যাক্সবার্গার ৭০-এর দশকের শেষের দিকে একটি কবিতার বই লিখেছিলেন যা কেউ কখনও পাত্তা দেয়নি। কয়েক বছর পরে একদল তরুণ শিল্পী তাঁর কাজ পুনরায় আবিষ্কার করেন, তখন তাকে অবশ্যই তার প্রতিভার পুনর্মূল্যায়ন করতে হয়। বিশেষ করে গ্লোরিয়া উন্মাদ নাট্য অভিনেত্রী তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আগ্রহী। আসলে লেট ফেম হল সৃজনশীল আকাঙ্ক্ষা যে কারণে “লেট ফেম” কেবল নিউ ইয়র্কের গল্প নয়, এটি শহরের অতীত এবং বর্তমানের একাধিক ব্যক্তির কথা বলে যার দিগন্ত সংকুচিত হয়ে এসেছে প্রত্যাশার সঙ্গে। সপ্তাহের অন্য দিন সহকর্মীদের সঙ্গে বিয়ার এবং বিলিয়ার্ডে মত্ত থাকে। এক সন্ধ্যায় যখন সে বাড়িতে ফিরে আসে, তাঁর একাকী প্রতিবেশীর কাছ থেকে প্রায় অপ্রীতিকর উত্তেজনার সঙ্গে খবর পায় যে একজন যুবক তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য অপেক্ষা করছে, তখন এড স্যাক্সবার্গার প্রথমে হতাশ হয়ে পড়ে।
অস্থির পৃথিবীতে আধুনিক সমস্যা মোকাবেলা করার সময় একটি পরিবার কীভাবে প্রায় ভেঙে পড়ার অবস্থায় সেই বাস্তব নিয়ে টম টাইকের-এর ছবি ‘দ্য লাইট’। একই ছাদের নীচে বসবাস করে, পরিবারটি কেবল পরিস্থিতির কারণে নাকাল হতে থাকে। সিরিয়ার একজন রহস্যময় গৃহকর্মী ফারাহ যখন তাদের জীবনে এসে পড়ে তখন তাদের ভঙ্গুর জীবন ব্যাহত হয়। তার উপস্থিতি অপ্রত্যাশিত উপায়ে এঙ্গেলসকে চ্যালেঞ্জ করে, দীর্ঘস্থায়ী আবেগ এবং লুকানো সত্য উন্মোচন করে। তবে, ফারাহের নিজস্ব গোপন এজেন্ডা রয়েছে, যা পরিবারের অস্তিত্বকে চিরতরে পুনর্গঠন করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*