রাজ্যের ২৮ হাজার পুজো কমিটিকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে আপত্তি জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মামলার প্রথম শুনানির পর মঙ্গলবার পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দিয়েছিল আদালত। এ দিন শুনানির পর বিচার পতি দেবাশিস কর গুপ্ত এবং শম্পা চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চ সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়িয়ে দিল। এ দিন ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই মামলা স্থগিত থাকবে। কিন্তু আগামীকাল অর্থাৎ বুধবার এই মামলার শুনানি হবে। যাতে ডিভিশন বেঞ্চ জানাবে, এই মামলা আদৌ গ্রহণ যোগ্য কি না। আইনজ্ঞদের মতে, যদি আগামীকাল আদালত বলে এই মামলা গ্রহণযোগ্য নয় তাহলে আর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। বুধবারই কার্যত নিষ্পত্তি হয়ে যাবে এই মামলার।
এ দিনের শুনানিতে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, সংবিধানের ২৮২ ধারায় জনস্বার্থে টাকা ব্যবহারে সরকারের একচ্ছত্র অধিকার আছে টাকা । কোর্ট এ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারে না । রাস্তা সংস্কারের জন্য এই ২৮ কোটি টাকা ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সরকারের হয়ে আইনজীবী শক্তিনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, কর দেন বলেই তাঁরা সরকারের টাকা খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন না। এর জন্য আলাদা পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটি রয়েছে। অডিটর ও কন্ট্রোলার পরে ঠিক করবেন কী হয়েছে টাকা নিয়ে।
তখন বিচারপতি দেবাশিষ কর গুপ্ত বলেন, “কেউ হস্তক্ষেপ করছে না। শুধু জানতে চাওয়া হচ্ছে টাকা কি নিয়ম মেনে খরচ করা হয়েছে? চেক ভালভ আছে কি? জলের গতিপথ পরিবর্তন বা স্রোত আটকাতে চাইছি না। শুধু লিকেজ আটকাতে চাইছি।
এরপর পাল্টা সওয়াল করেন মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টচার্য। তিনি বলেন, “বাজেটে বরাদ্দ টাকা খরচ নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না। আর মুখ্যমন্ত্রী যখন ঘোষণা করেছেন তখন কোনও সরকারি অর্ডার ছিল না।” দীর্ঘ শুনানির পর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয় মামলা স্থগিত থাকবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।
অন্যতম মামলাকারী সৌরভ দত্ত টেলিফোনে ‘দ্য ওয়াল”-কে বলেন, “সরকারের এই সিদ্ধান্ত আমাদের দেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানকে লঙ্ঘন করেছে। এখন বিষয়টি বিচারাধীন। আমরা অপেক্ষা করছি আদালতের রায়ের। তারপর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।” সেই সঙ্গে সৌরভবাবুর দাবি, “আমরা মামলা করেছি ১৯ সেপ্টেম্বর। আর সরকার টাকা রিলিজ করতে শুরু করেছে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে।”
এখন দেখার বুধবার মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আদালত কী সিদ্ধান্ত জানায়। তার উপরেই নির্ভর করছে অনুদান মামলার ভবিষ্যৎ।

Be the first to comment