নিজস্ব সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর:
জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জন ঘিরে ফের উত্তেজনা ছড়াল নদিয়ার কৃষ্ণনগরে। শুক্রবার রাতে শহরের চকেরপাড়া বারোয়ারি পুজোর শোভাযাত্রায় পুলিশ ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশি বিবৃতি অনুযায়ী, নির্ধারিত নির্দেশ অমান্য করে চকেরপাড়া বারোয়ারি পুজো কমিটি দীর্ঘক্ষণ প্রতিমা রাস্তার মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখে, যার ফলে অন্য পুজো কমিটিগুলোর ভাসানে বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে কর্তব্যরত মহিলা পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই সময় মহিলা পুলিশ কর্মী রুবি দত্ত, দেবরতি বিশ্বাস ও মন্দিরা দেবনাথ শান্তি বজায় রাখার অনুরোধ করলেও তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং বাধা দেওয়া হয়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মৃদু লাঠিচার্জ চালায় পুলিশ। পরে ভাসান প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয় এবং আইনশৃঙ্খলা ফেরানো হয়।
এই ঘটনার ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপি নেতারা পুলিশের বিরুদ্ধে “হিন্দুদের উপর বর্বরতা”র অভিযোগ তুলেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এক্স-এ লেখেন, “মমতার পুলিশের পাশবিক আচরণ—হিন্দু উৎসবে মহিলাদের উপরও লাঠিচার্জ।” অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ফেসবুকে লিখেছেন, “মানুষের আবেগ বুঝে পরিস্থিতি সামলানো যেত। কিন্তু মমতার পুলিশ হিন্দু উৎসবে বারবার অযৌক্তিক বলপ্রয়োগ করছে।”
এই অভিযোগকে “ইচ্ছাকৃত কুৎসা” বলে পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, “বাংলায় এত পুজো শান্তিতে শেষ হয়েছে। তাহলে কৃষ্ণনগরে এই ঘটনা কেন ঘটল, সেটাই খতিয়ে দেখা দরকার। বিজেপি নেতারা বিকৃতি ছড়াচ্ছেন।”
এদিকে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় চকেরপাড়া বারোয়ারি পুজো কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়েছে—পুলিশের কাজে বাধা, অসদাচরণ ও মহিলা কর্মীদের শারীরিক হেনস্তার অভিযোগে। কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎসবের সময় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সকলের দায়িত্ব, এবং আইনভঙ্গের ঘটনায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুজোর আনন্দে ছায়া ফেললেও, এই ঘটনার পর কৃষ্ণনগরের উৎসবমুখর পরিবেশে এখন রাজনীতি ও আইনশৃঙ্খলার গন্ধ স্পষ্ট।

Be the first to comment