পুজোর সাজে এ যেন এক অন্য মুখ্যমন্ত্রী

Spread the love

দেবীপক্ষ শুরু হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই উদ্বোধন করেছেন মহানগরের কয়েকটি বড় পুজোর।  শহরের মুড এখন পুজোময়। ‘তিতলি’-র যতই চোখরাঙানি থাকুক, থই থই ভিড় গড়িয়াহাট থেকে হাতিবাগানের পুজো-বাজারে।

তার মধ্য়েই মঙ্গলবার দিদিকেও দেখা গেল একদম অন্যরকম সাজে। মন্ত্রিসভার বৈঠকের জন্য নবান্নে ঢুকছেন, পরনে লাল চুড়ি পাড়ের সাদা শাড়ি। আঁচলেও লাল-সাদা ডোরা। নবান্ন থেকে বেরিয়ে বিকেলে ওই শাড়ি পরেই গেলেন পুজো উদ্বোধনে।
এমনিতেই শারদোৎসবের প্রধান রংই লাল আর সাদা। বিশেষ করে মহাষ্টমীর সকালে অঞ্জলি দেওয়ার জন্য বাঙালি মেয়ে-বউ-মা-কাকিমাদের পরনে লাল-সাদা শাড়িই চোখে পড়ে বেশি। কিন্তু স্মরণকালের মধ্যে মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও শাড়িতে লালের ছোঁয়া কখনওই দেখা যায়নি। মেরুন, গোলাপি, বা কমলা-লাল ঘেঁষা রঙের পাড়ও দেখা যায়নি তৃণমূলনেত্রীর শাড়িতে।

দিদি সবসময়েই সাদা খোলের তাঁতের শাড়ি পরেন। সঙ্গে নীল, হলুদ, সবুজ বা খয়েরি সরু পাড়। তাঁর প্রিয় কম্বিনেশন হয়তো নীল-সাদা। অত্যন্ত রুচিসম্মত সাদা শাড়িতেই সবসময় দেখা যায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে। গভীর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আদ্যন্ত ভারতীয় এই সাদা আনস্টিচড পোশাক পরে যেমন গাঁ,গঞ্জ, পাহাড়, জঙ্গলমহলে সাবলীল দিদি, তেমনই বিলেত হোক বা ইউরোপের কোনও দেশে শিল্প সম্মেলন–সেখানেও ততটাই স্বচ্ছন্দ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর শীতের সময় ঠান্ডা আটকাতে বড় জোর একটা শাল বা কার্ডিগান।

রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই সাজগোজে কোনওদিনই উচ্চকিত নয় মমতা। বরাবরই হাল্কা রঙের শাড়িতে দেখা গেছে তাঁকে। মিটিং-মিছিল-মহাকরণ অভিযানই হোক বা রেলমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে। সাজপোশাককে কোনওদিনই তাঁর ব্যক্তিত্বের অঙ্গ হয়ে উঠতে দেননি নেত্রী। এমনকী কালীঘাটে নিজের বাড়িতে দলীয় নেতা বা সাংবাদিকদের সঙ্গে হঠাৎ জরুরি বৈঠকে মমতাকে আটপৌরে ভাবে শাড়ি পরেও দেখা গেছে।

সেই দিদিকে হঠাৎই লাল চুড়ি পাড়ের শাড়িতে এ দিন দৃশ্যত অন্যরকমই লেগেছে।

মমতার পরিবার ও দলে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহিলা নেত্রীদের অনেকের কথায়, দিদি নিজে সাদা শাড়ি পরেন ঠিকই। কিন্তু অন্যের জন্য শাড়ি বাছার ক্ষেত্রে তাঁর পছন্দ তারিফ করার মতোই। কাকে কোন শাড়িতে মানাবে, কোন রঙ কাকে ভাল লাগবে তা খুব ভাল বলে দিতে পারেন তিনি। পুজোর সময়ের কথাই ধরা যাক, কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর জন্য বরাবর শাড়ি উপহার পাঠান মমতা। সেই শাড়ি তিনি নিজে পছন্দ করেন। পরিবারের সকলের জন্য পুজোর শাড়ি কাপড় পছন্দ করে দেন তিনি। আবার দলের প্রবীণ ও নবীণ নেতাদের জন্য পুজোয় ও ভাইফোঁটায় নিজেই বেছে দেন পাঞ্জাবির রঙ।
শুধু শাড়ি বা পাঞ্জাবি নয়, মমতাঘনিষ্ঠ এক নেতা বুধবার জানান, তৃণমূলে অনেকেই জানেন না প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জন্য একবার স্যুটের কাপড় পছন্দ করে দিয়েছিলেন মমতা। প্রণববাবু তখন রাষ্ট্রপতি। দর্জি দিয়ে প্রণববাবুর কোট প্যান্টের মাপ নিয়ে স্যুট বানিয়ে মমতা পাঠিয়েছিলেন প্রণববাবুকে। যেটা উপহার পেয়ে আহ্লাদিত হয়েছিলেন প্রণববাবুও। প্রণবপত্নী শুভ্রা মুখোপাধ্যায় যতদিন বেঁচে ছিলেন, প্রতিবার পুজোয় মমতার জন্য শাড়ি পাঠাতেন। তবে লাল পাড়ের শাড়ি তিনিও কখনও মমতাকে উপহার দেননি।

সে দিক থেকে মমতার এ দিনের শাড়ি চোখের পড়ার মতোই। দেবীপক্ষের দিদি যেন একটু অন্যরকম।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*