ফের কেন্দ্রকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : নদী বাঁধ নিয়েও কেন্দ্রর বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ আনলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

আজ দার্জিলিং-এ পর্যালোচনা বৈঠক করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় ও রাজ্যকে কোনরকম সাহায্য করছে না কেন্দ্র। তারা বিভিন্ন নদীতে পলি তোলার কোন কাজই করে না। এমনকি বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিকে নদী বাঁধ নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে সব নদী বাঁধ ভেঙে দেওয়া হোক।

রাজ্যের সেচ দফতরের কাজ ণিয়েও খুশি না মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়ে দেন, সেচ দফতরকে পূর্ত দফতরের সঙ্গে পরামর্শ করে কাজ করতে হবে।বন দফতরকে ম্যানগ্রোভ লাগাতে হবে।
রাজ্যের সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে দৃশ্যত উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী আজ সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পর্যালোচনা করেন। উত্তরের জেলাগুলির মধ্যে দার্জিলিং, বিশেষত মিরিক সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানান।বলেন, রোহিণীর রাস্তায় ধস নেমে বড় ক্ষতি হয়েছে। তা সারাতে অন্তত ২০/২৫ দিন সময় লাগবে।পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছেন।এই সময় যাতায়াতের জন্য তিনধারিয়া ও পাংখাবাড়ি রোড ব্যবহার করা যাবে।দুধিয়ায় আস্থায়ী হিউম পাইপ সেতুর কাজও এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।
এর পাশেই একটি পাকা সেতুও তৈরি হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।
আজও এই প্লাবনের জন্য প্রতিবেশী ভুটানকে দায়ী করেন তিনি। আরও বলেন, প্রকৃতিকে নিয়ে খেলা করা ঠিক নয়। নদীকে নিজের মত বইতে দিতে হয়। নয় তার পলি তোলো, না হয় বাঁধ ভেঙে দাও বলে মন্তব্য করেন।
রাজ্যের চাপে আগামীকাল কেন্দ্র একটি বৈঠক ডেকেছে। সেখানে রাজ্যের এক আধিকারিককে পাঠানো হবে। যেই যাক, ওদের ক্ষতিপূরণ দিতে বলতে হবে। ওদের বাঁধের জল এখানে এসে ক্ষতি না করতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। কেন বারবার রাজ্য ভুক্তভোগী হবে বলে তিনি ক্ষোভ ব্যক্ত করেন।
সাম্প্রতিক দুর্যোগে উত্তরবঙ্গে ৩২ জন মারা গেছেন।তাঁদের সবার পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের একজন করে হোম গার্ডের চাকরিও দেওয়া হয়েছে। ৩৭টি ত্রাণ শিবির করা হয়েছে।
দুর্যোগে যাঁদের নথিপত্র হারিয়েছে, তার প্রতিলিপি করে দেওয়া হচ্ছে। এই বিপর্যয়ে সবাই যাতে সহায়তা করতে পারেন, এর জন্য তহবিল গঠনের কথা জানান বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।
কেন্দ্র যেভাবে রাজ্যের আবাস যোজনা, ১০০ দিনের টাকা, সর্বশিক্ষা মিশন ইত্যাদি খাতে দীর্ঘদিন টাকা আটকে রেখেছে, আজও তা নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*