রোজদিন ডেস্ক : কোচবিহারের প্রশাসনিক সভা থেকেও এসআইআর নিয়ে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ছিল তাঁর জেলার প্রশাসনিক সভা। সেখানেই নিয়ম করে এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তিনি একহাত নেন। বলেন, নির্বাচন কমিশন একতরফা হলে মানুষ কার কাছে বিচার চাইতে যাবে? এই-ভাষাতেই ফের কমিশনের পরিকল্পনাহীন এসআইআরকে আক্রমণ করেন। বলেন, এসআইআর চলছে। রাজ্যের উন্নয়নে যেন কোনও সমস্যা না হয় দেখবেন। আলোচনা না করে ১২ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একদিনে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী চালু করেছে কমিশন। যার ফলে বাংলায় প্রশাসনিক কাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। উন্নয়নের কাজে এভাবে বাধা পড়ায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক সভা থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, আমি জানি বিএলও থেকে বিডিও, এসডিও-দের উপর খুব চাপ পড়ছে। আপনারা দেখবেন সকলকে ওই কাজটাও করতে হবে, আবার উন্নয়নের কাজটাও চালাতে হবে। এটা ইচ্ছা করেই করা হয়েছে। যাতে উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে যায়। কিন্তু উন্নয়ন চলতে থাকবে। অন্য রাজ্যগুলিও অপরিকল্পিত এসআইআরের শিকার বলেও মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, আমি বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না। দু’মাসের মধ্যে করতে হবে কেন তাড়াহুড়ো করে, আগের বার তো ২ বছর লেগেছিল। হঠাৎ কীসের এত খিদে? ন্যায্য ভোটারদের বাদ দিয়ে ডাবল ইঞ্জিন সরকারকে জেতাতে হবে? আমি ভেবে পাই না, কমিশনই যদি একতরফা হয়ে যায়, তাহলে মানুষ বিচার পাবে কোথায়? গণতন্ত্র যদি একপক্ষ হয়ে যায়, তাহলে সেটাকে স্বৈরতন্ত্র বলে। আমরা চাই সংবিধানের সম্মান যেন রক্ষা করা হয়। এই এসআইআর-এর চাপে ইতিমধ্যেই একাধিক রাজ্যে মৃত্যুর অভিযোগ উঠছে। সব এজেন্সি পক্ষপাতিত্ব করলে কীভাবে বিচার পাবে মানুষ! বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। স্বাভাবিকভাবেই তার আগে প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজের চাপ থাকে প্রশাসনিক কর্তাদের উপর। সেই পরিস্থিতিতে এসআইআর চালু করে স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ করছে কমিশন। সোনালি বিবির কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওদের বাংলাদেশে পুশ করে দিল! বাংলায় কথা বলেছে তাই! রাজ্যের এটা সীমান্তবর্তী এলাকা। এখানে কেউ যেন মাতব্বরি করতে না যায়। পুলিশকে নাকা চেকিংয়ের ওপর আরও জোর দেওয়ারও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Be the first to comment