অবিলম্বে বন্ধ হোক পরিকল্পনাহীন ভুলে ভরা এসআইআর, শুনানিতে কেন বিএলএ নেই, কমিশনকে চিঠি তৃণমূলনেত্রীর

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : গোটা এসআইআর-টাই পরিকল্পনাহীন, ত্রুটিপূর্ণ ও প্রশাসনিক গাফিলতিতে ভরা। তার ওপর শুনানিতে কেন বিএলএ ২-দের থাকতে দেওয়া হচ্ছে না? অভিযোগ তুলে ফের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা চার পাতার চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, এই এসআইআরের ফলে গণতন্ত্রের ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আগেও তিনি এই বিষয়ে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। কিন্তু সংশোধনের বদলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তাঁর দাবি, কোনও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই তড়িঘড়ি এই এটা করা হচ্ছে। নিচুতলার আধিকারিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা ঠিক নেই, একের পর এক নির্দেশ পরস্পরবিরোধী। এর ফলে গোটা প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা হারাচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কমিশনের তরফে মৌখিক ও হোয়াটস অ্যাপ বার্তার মাধ্যমে নির্দেশ পাঠানো হচ্ছে, অথচ এত বড় সাংবিধানিক গুরুত্বের প্রক্রিয়ার জন্য কোনও লিখিত বিজ্ঞপ্তি বা আইনি নির্দেশ জারি করা হয়নি। এর ফলে স্বচ্ছতা নষ্ট হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি প্রকৃত ভোটারদের বঞ্চিত করার পথ খুলে দিচ্ছে, যা সাংবিধানিক মতের পরিপন্থী। চিঠিতে তিনি আরও বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার অপব্যবহার করে ব্যাক এন্ড থেকে ভোটারদের নাম মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইআরওদের অনুমতি বা জানার বাইরে এই কাজ হচ্ছে। কোন আইনি ক্ষমতায় এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও অভিযোগ, এক রাজ্যে যে নথি বৈধ, অন্য রাজ্যে তা বাতিল করা হচ্ছে। বিহারে ফ্যামিলি রেজিস্টার পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণযোগ্য, পশ্চিমবঙ্গে তা নিতে অস্বীকার করা হচ্ছে। একইভাবে স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্রও গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। এর ফলে ভুগছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা।
শুনানি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটারদের আগাম জানানো হচ্ছে না কেন তাঁদের ডাকা হচ্ছে? শুনানির পরে কোনও স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না। বহু প্রবীণ, অসুস্থ মানুষদেরও শুনানিতে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত অবজারভার প্যানেল উপেক্ষা করে অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে। বুথ লেভেল এজেন্টদের শুনানি প্রক্রিয়ায় ঢুকতে না দেওয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*