রাজ্যের বাইরে পাঠানো যাবে না এলপিজি, সঙ্কট মোকাবিলায় দাওয়াই মুখ্যমন্ত্রীর

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : রাজ্যে এলপিজি সরবরাহ ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হল রাজ্য সরকার। আলিপুরে তেল ও গ্যাস সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, সাধারণ গৃহস্থ পরিবার থেকে শুরু করে হাসপাতাল, আইসিডিএস কেন্দ্র, মিডডেমিল, হস্টেল ও ছোট রেস্তরাঁ, কোনও ক্ষেত্রেই যাতে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা না হয়, সে জন্যই জরুরি ভিত্তিতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত পরশুদিন থেকে পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বুধবারই প্রথম এই বৈঠক করা হয়। বৈঠকে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি ও সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত গ্যাসসহ বিভিন্ন গ্যাস ও সিএনজি সংস্থার প্রতিনিধিদের ডেকে পরিস্থিতির স্টক টেকিং করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, মূল সমস্যা এখন গ্যাস সরবরাহ নিয়েই। তবে ডিজেল বা পেট্রোলের ক্ষেত্রে এখনও কোনও সমস্যা তৈরি হয়নি। তিনি জানান, গ্যাসের অভাবের আশঙ্কা ঘিরে মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই ভাবছেন, একটি সিলিন্ডার ফুরিয়ে গেলে নতুন সিলিন্ডার পেতে ২৫ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই ধরনের বার্তা থেকেই প্যানিক ছড়িয়েছে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। মমতা জানান, স্বাভাবিক অবস্থায় যেখানে প্রায় ২ লক্ষ বুকিং হয়, সেখানে আতঙ্কের কারণে বুকিং বেড়ে ৬ লক্ষে পৌঁছে গিয়েছে। এর ফলে গ্যাস সংস্থাগুলির সার্ভারও সাময়িকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তিনি সংস্থাগুলিকে দ্রুত সার্ভার স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেন এবং যাঁদের বাড়িতে একটি সিলিন্ডার ফুরিয়ে গিয়েছে বা ফুরোতে চলেছে, তাঁদের অগ্রাধিকার দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করার কথা বলেন।

বৈঠকে রাজ্য সরকারের তরফে আরও অনুরোধ করা হয়েছে, আপাতত রাজ্যের রিফাইনারিগুলিতে উৎপাদিত গ্যাস বাইরে পাঠানো না হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের এখানকার গ্যাস যদি বাইরে চলে যায়, তাহলে সঙ্কটের সময় বাইরে থেকে আমরা তা ফেরত পাব না। আগে নিজেদের ঘর সামলাতে হবে। হলদিয়া, কোলাঘাট ও দুর্গাপুরের রিফাইনারি থেকে আপাতত রাজ্যের চাহিদা মেটানোর উপর জোর দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
তিনি জানান, প্রতিদিন কত স্টক রয়েছে এবং কত গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে নজর রাখতে রাজ্য সরকার একটি ড্যাশবোর্ড তৈরি করবে। পাশাপাশি গ্যাস সংস্থাগুলিকেও একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোসিডিওর তৈরির কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় একজন করে নোডাল অফিসার রাখার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যিনি প্রতিদিনের বুকিং ও সরবরাহের হিসাব পর্যবেক্ষণ করবেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাধারণ গৃহস্থ পরিবার ছাড়াও মিড-ডে মিল, আইসিডিএস কেন্দ্র, হাসপাতাল, হোস্টেল এবং ছোট রেস্তরাঁ বা হোম ডেলিভারি পরিষেবার ক্ষেত্রেও যাতে সমস্যা না হয়, সেই দিকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গ্যাসের প্রাপ্যতা কম থাকলে সম্পূর্ণ বন্ধ না করে আংশিক সরবরাহ চালু রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে কালোবাজারি ও মজুতদারি রুখতে কড়া সতর্কবার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কোথাও গ্যাস মজুত বা কালোবাজারির অভিযোগ মিললে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। যদি কোথাও সত্যিই মজুতদারি বা কালোবাজারি হয়, সরকার তা বরদাস্ত করবে না। প্রয়োজন হলে সেই গ্যাস তুলে নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি করা হবে, বলেন তিনি।

এছাড়া গ্রামীণ এলাকায় যাঁরা স্টোভে রান্না করেন তাঁদের কথা মাথায় রেখে কেরোসিনের প্রাপ্যতা বাড়ানোর বিষয়েও কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। রেশনে কেরোসিনের বরাদ্দ বাড়ানো এবং বাজারে তার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার কথাও তোলা হয়েছে বৈঠকে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটায় সমস্ত দফতর ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন তিনি। সেখানে জেলা ভিত্তিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*