রাজ্যে আসল পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্যে আসল পরিবর্তনের ডাক দিলেন। আজ মালদায় ভিড়ে ঠাসা জনসভায় তাঁর নিজস্ব ভঙ্গিতে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে একাধিকবার বাংলায় পরিবর্তনের ডাক দেন তিনি।
দুর্নীতি, মহিলা সুরক্ষা, অনুপ্রবেশ-সহ একাধিক বিষয়ে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে তুলোধুনো করেন। বিহার নির্বাচনে জয়ের পরই তিনি ঘোষণা করেছিলেন, বিহারের গঙ্গা পশ্চিমবঙ্গেও যায়! আজ ফের সেই কথা বলেন।
গতকালই দীর্ঘ আঠাশ বছর পর বিএমসি-র ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। এত বছর পর সেখানে শিবসেনা সাম্রাজ্যে পতন ঘটিয়েছে। গত বছরের শেষে দীর্ঘ ৪৫ বছর পর বামশাসিত কেরালায় তিরুবন্তপুরম পুর নিগমও দখল করেছে বিজেপি৷

আজ মালদার জনসভায় এই সব প্রসঙ্গ তোলেন প্রধানমন্ত্রী। সারা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে তাঁর দল কিভাবে বিজয় রথ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তা বলেন। সঙ্গে জানিয়ে দেন, রাজ্যে বিজেপির সরকার এলে এখানেও দ্রুত বিকাশ হবে। মালদা, বাংলার পুরানো গৌরব তাঁরাই ফিরিয়ে আনবেন বলে দাবি করেন। বলেন, অর্থনীতির নতুন দিগন্ত খুলে যাবে, যুবক, কৃষকদের সুযোগ বাড়বে, উদ্যোগ বৃদ্ধি পাবে। এই সবই মোদির গ্যারান্টি।
জনসভায় রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুপ্রবেশ বড় সমস্যা। পৃথিবীর ধনী দেশগুলিও তাদের দরজা বন্ধ করছে। এই রাজ্যের সরকার ক্ষমতায় থাকলে এই সমস্যা যাবে না৷ রাজ্যে দাঙ্গা বাড়ছে। গরিবের অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে ওরা।
দুর্নীতির জন্য মালদাও ক্ষতিগ্রস্ত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে প্রতি বছর অজস্র মানুষের ঘর নদীতে তলিয়ে যায়। লক্ষ লক্ষ মানুষ পার বাঁধাতে সরকারকে আবেদন করেন। কিন্তু বাঁধের নামে কত যে খেলা হয় তা এখানকার মানুষ তাঁর থেকে ভাল জানেন বলে মন্তব্য করেন। বাঁধ নিয়ে সিএজি রিপোর্টের উল্লেখ করে
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষকে না দিয়ে নিজেদের লোকদের তৃণমূল টাকা দিয়েছে৷ এমনকি যাদের প্রয়োজন নেই তাদের ও দিয়েছে। রাজ্যে বিজেপি র সরকার এলে তৃণমূলের এইসব দুর্নীতি দূর হবে।
রাজ্যে মহিলাদের সুরক্ষা নেই বলেও তোপ দাগেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও মেয়েরা সুরক্ষিত না। এখানে মহিলা সাংবাদিকদেরও (পড়ুন বেলডাঙ্গা) মারা হচ্ছে।
রাজ্যে কেব্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পও চালু কর‍তে দেয়নি রাজ্য। এই সরকার গরিবদের ওপর নির্মম।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি যে এই সব ইসুতে রাজ্যকে আক্রমণ করবে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ বক্তব্যে তা পরিস্কার।
বিহার, ওড়িশা জয়ের পর এই রাজ্যই যে তাঁদের পাখির চোখ তার ইঙ্গিত মেলে।
সমাবেশে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রমুঝ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে সুকান্ত মজুমদার, শান্তনু ঠাকুর-সহ বিজেপি নেতারা উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না দিলীপ ঘোষ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*