রোজদিন ডেস্ক : মসনদে বসার পর থেকেই “বিপ্লবী” কেন্দ্রের মোদি সরকার। একের পর “বিপ্লব” করে চলেছে তাঁরা। ক্ষমতায় বসেই প্রথমেই তুলে দেওয়া হল প্ল্যানিং কমিশন। এল নীতি আয়োগ। তুলে দেওয়া থেকে রেল বাজেট। তারপর একে একে কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা, তিন তালাকের বিধি।
পাশাপাশি জিএসটি চালু, সিএএ বিল পাশ, অসমে এনআরসি, অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরি, উদাহরণের শেষ নেই। এর পাশাপাশি সরকার প্রায় নীরবে আর একটি কাজ করে চলেছে, তা হল, দেশের ব্যাঙ্কিং কাঠামোর ভোল বদল। ইতিমধ্যেই একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কগুলিকে মার্জ করিয়ে মোট ব্যাঙ্কের সংখ্যা অনেক কমানো হয়েছে। এবার আরও কয়েকটি ব্যাঙ্ককে মার্জ করানোর পরিকল্পনা চলছে। সেই লক্ষ্যে অনেক রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্ক থেকেই নিজেদের অংশীদারি কমিয়েছে কেন্দ্র।
এখনও পর্যন্ত যা, খবর, তাতে দেশে মোট তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্ক রাখার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। তিনটি ব্যাঙ্ক হল, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক ও কানাড়া ব্যাঙ্ক। ২০১৭ সাল থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২৭টি ব্যাঙ্ককে সংযুক্ত করে ১২টি ব্যাঙ্কে নামিয়ে আনা হয়। সংস্কারের দ্বিতীয় ধাপে সরকারের লক্ষ্য এবার সংখ্যাটা তিনে নামিয়ে আনা। সেই লক্ষ্যপূরণে কাজ শুরু হয়েছে। মার্জারের পর এখন যে ১২টি ব্যাঙ্ক আছে, তারমধ্যে ওপরে উল্লেখিত তিনটি বৃহৎ ব্যাঙ্কের সঙ্গে বাকি ৯টি ব্যাঙ্ককে মার্জ করানো হবে। অর্থাৎ, ৯টি ব্যাঙ্কের আর পৃথক অস্তিত্ব থাকবে না। অর্থমন্ত্রক এবং নীতি আয়োগ এই নিয়ে আলোচনা করছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে আলোচনা হবে। তৈরি করা হচ্ছে প্রোপোজাল রিপোর্ট। যদিও সবটা এখনও প্রস্তাব এবং চিন্তা ভাবনার স্তরে। আগামী কয়েক মাস ধরে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তবে ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলাই সরকারের লক্ষ্য।
এসবের নেপথ্যে সরকারের একটাই লক্ষ্য ব্যাঙ্কগুলির এনপিএ বা নন পারফর্মিং অ্যাসেট খাতায়, কলমে কমিয়ে আনা। প্রত্যেকটি ব্যাঙ্কের এনপিএ আছে। সেই সম্পদ খাতায় কলমে ব্যাঙ্কের হিসেবকে লোকসানজনক হিসেবে তুলে ধরে।ব্যাঙ্কগুলিকে সংযুক্ত করা হলে এই অনুৎপাদক সম্পদ বা এনপিএ কেন্দ্রীয়ভাবে মাত্র তিনটি ব্যাঙ্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ফলে তা অনেক কম দেখাবে। প্রাথমিক ভাবে ভাবা হয়েছে, ব্যাঙ্ক অব মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাঙ্ক, ইউকো ব্যাঙ্ককে মিশিয়ে দেওয়া হবে স্টেট ব্যাঙ্কের সঙ্গে। ব্যাঙ্ক অব বরোদা, সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ও ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ককে সংযুক্ত করা হতে পারে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের সঙ্গে। ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়াকে যুক্ত করা হতে পারে কানাড়া ব্যাঙ্কের সঙ্গে। তবে কোনটাই এখনও চূড়ান্ত নয়।

Be the first to comment