তৃণমূলের মহা জঙ্গলরাজকে বদলানোর ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : রাজ্যে তৃণমূলের মহা জঙ্গলরাজ বদলানোর ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ সিঙ্গুরের ভিড়ে ঠাসা জনসভায় তিনি আবারও বলেন, রাজ্যে আসল পরিবর্তন চাই। এই মহা জঙ্গলরাজকে তাঁরা বদলাতে চান। বিহারে জঙ্গলরাজ আটকানো হয়েছে। এবার এই রাজ্যেও টিএমসি-র মহা জঙ্গলরাজ বদলাতে হবে বলে তিনি হুঙ্কার দেন। উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বাংলায় বলেন, এই মহা জঙ্গলরাজকে বিদায়ের জন্য তৈরি তো? আমার সঙ্গে সঙ্কল্প করুন। এখানে চাই বিজেপি সরকার।
এরপর নিজস্ব ভঙ্গিতে পরপর পাঁচ বার বলেন, পালটানো দরকার। উপস্থিত জনতা তাঁর সঙ্গে গলা মেলালে দৃশ্যত খুশি প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন সময় তিনি সিঙ্গুরে এসেছেন, যখন বঙ্কিমচন্দ্রর বন্দে মাতরম এর দেড়শো বছর পূর্তিতে দেশ জুড়ে অনুষ্ঠান হচ্ছে। হুগলি ও বন্দে মাতরমের সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ। এখানেই ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র বন্দে মাতরম-কে পূর্ণতা দিয়েছিলেন বলা হয়। দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে তাঁদের সরকার নেতাজির প্রতিমা বসিয়েছে।
এই রাজ্যের প্রতি জেলায় কিছু না কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। এখানকার মানুষের বুদ্ধি, প্রতিভা আছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এক জেলা, এক পণ্য নীতি নেবে। এখানে ধনিয়াখালির শাড়ি, পাট, হস্তশিল্পের বহু সামগ্রীও আছে। প্রতি জেলায় এমন পণ্যে তাঁরা উৎসাহ দেবেন বলে জানান। নেওয়া হবে প্লাষ্টিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থাও।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তাঁদের সরকার এলে কি কি সুবিধা হবে তার দীর্ঘ ফিরিস্তি দেন প্রধানমন্ত্রী। পাট শিল্পকে উৎসাহিত করার কথাও বলেন। এই রাজ্যের নদী, সমুদ্রতীর ইত্যাদি প্রাকৃতিক সম্পদেরও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।
রাজ্য সরকারকে “নির্মম” অভিহিত করে বলেন, তাঁর সঙ্গে, বিজেপির সঙ্গে শত্রুতা আছে মানছেন তিনি, কিন্তু টিএমসি নিজেদের লোকদের সঙ্গেও শত্রুতা করছে বলে মন্তব্য করেন। বলেন, তিনি বারবার চিঠি দিলেও মুখ্যমন্ত্রী তা পড়েন না৷ ত্রিপুরা, দিল্লি ইত্যাদি রাজ্যের উদাহরণ টেনে দাবি করেন, বিজেপি সরকার আসার পর সেখানে কিভাবে উন্নয়ন হচ্ছে। ত্রিপুরায় বাড়ি বাড়ি নলবাহিত জল পৌঁছেছে।
এই রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সন্দেশখালির মত ঘটনা হবে না, হাজার হাজার শিক্ষক চাকরি হারাবেন না, এখানে আইনশৃঙ্খলা ঠিক হলে বিনিয়োগও আসবে বলে জানান। শাসক দলকে তোপ দেগে বলেন, এখানে মাফিয়াদের ছাড় দিয়ে রাখা হয়েছে, সব কিছুতে সিন্ডিকেট ট্যাক্স বসানো আছে। বিজেপি এই সিন্ডিকেট, মাফিয়া রাজকে শেষ করবে।
এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ষণ, হিংসায় লাগাম টানতেও বিজেপিকে দরকার বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।
মৎস্যজীবীদের জন্য কেন্দ্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম করেছে, সেখানেও “ব্রেক” লাগিয়ে দিয়েছে এই রাজ্য। এখানকার মৎস্যজীবীদের কোনও সহায়তা না করে তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়েও খেলছে। আয়ুস্মান ভারত-সহ বহু কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে এখানে কার্যকর করতে দেওয়া হয় না। সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য জমি দেয় না৷
অনুপ্রবেশকারীদের এরা পছন্দ করে, তাঁদের নানা সুযোগ সুবিধা দেয়, কারণ তারা “ভোট ব্যাঙ্ক” বলে কটাক্ষ করেন।

রাজ্য ও দেশের সুরক্ষা নিয়ে তৃণমূল খেলা করছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানকার তরুণদের সতর্ক থাকা দরকার। বিদ্যাসাগর নারী, যুবশক্তিকে পরিবর্তনের মাধ্যম বলতেন। এখানে মহিলারা সুরক্ষিত না, তাঁদের রক্ষায় এই সরকারকে পালটানো দরকার। তৃণমূল কে “সবক” শেখাতে হবে। এবং নির্বাচনের মাধ্যমেই তা সম্ভব বলে বার্তা দেন। বলেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার থাকলে কেন্দ্রের অনেক কাজ হয়।
সিঙ্গুরে কয়েকটি সরকারি প্রকল্পর উদ্বোধন ও ঘোষণা করে পৌনে চারটেয় সভাস্থলে আসেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিপুল জনসমাগম দেখে দৃশ্যত উচ্ছসিত তিনি। আজও যাঁরা তাঁর ছবি নিয়ে এসেছেন, এসপিজি-কে তাঁদের নাম, ঠিকানা-সহ সংগ্রহ করে আনতে বলেন। তিনি নিজে পরে তাঁদের ধন্যবাদপত্র দেবেন। যা শুনে অভিভূত উপস্থিত জনতা। অনেকেই তাঁদের আনা প্রধানমন্ত্রীর ছবি খুশিতে আন্দোলিত করেন। ভারত মাতা কি জয় বলে ভাষণ শুরু করে প্রধানমন্ত্রী জয় শ্রীরামকৃষ্ণ, জয় মা সারদা বলেন। সিঙ্গুরের এই ভূমিকে প্রণাম জানিয়ে আজ সকালে তিনি কামাখ্যা ভূমিতে ছিলেন বলে জানান। কানায় কানায় ভরা সভাস্থল দেখে খুশিয়াল ভাবে বলেন, সিঙ্গুরের এই সভায় এত মানুষ!! মহিলা, কৃষক, তরুণ, শ্রমিক সবাই আছেন। যা রাজ্যের নতুন কাহিনী বলবে।
প্রধানমন্ত্রী সভাস্থলে এলে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে বিদ্যাসাগরের ছবি উপহার দেন। বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীও তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে দেবী মুর্তির ছবি তুলে দেন। হুগলির বিখ্যাত জগদ্ধাত্রী পুজোর কথা মাথায় রেখে তাঁকে জগদ্ধাত্রীর ছবিও দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে “স্বাগতম ” ধ্বনিতেও মুখর হয় সমাবেশ।
বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। মঞ্চে সুকান্ত মজুমদার, লকেট চ্যাটার্জি, প্রনয় রায়, শান্তনু ঠাকুর-সহ বহু বিশিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*