রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:– আইআইটি খড়্গপুরে কলাকাতার ছাত্রের রহস্যমৃত্যু। শুক্রবার সকালে সেখানকার রাজেন্দ্র প্রসাদ হলের ই-২০৩ নম্বর রুম থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় বছর ২১-এর ঋতম মণ্ডল নামে ওই পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার হয়। বন্ধুরা তাঁকে ডাকতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সাড়া না দেওয়ায় আইআইটি কর্তৃপক্ষকে খবর দেন তাঁর সহপাঠীরা। খড়্গপুর টাউন থানার অধীন হিজলি ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ঋতমকে উদ্ধার করে স্থানীয় বিসি রায় হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রের খবর, ঋতম আইআইটি খড়্গপুরের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। ওই পড়ুয়া কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকার বাসিন্দা। এ দিন সকালে ঋতমের বন্ধুরা তাঁর খোঁজ করতে গিয়ে দেখেন তাঁর ই-২০৩ রুমের দরজা বন্ধ। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না মেলায় বন্ধুরা আইআইটির কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। কর্তৃপক্ষের ফোন পেয়ে হিজলি ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং বন্ধ থাকা ওই ঘরের দরজা ভেঙে ঋতমকে উদ্ধার করে। গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তিনি সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন আইআইটি-র ডিরেক্টর অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী দায়িত্ব নেওয়ার পরেই ক্যাম্পাসে ছাত্র মৃত্যু ঠেকাতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ক্যাম্পাসে যাতে আর কোনও পড়ুয়ার অস্বাভাবিক বা অকাল মৃত্যু না হয় তার জন্য নতুন একটি অ্যাপ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই অ্যাপের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘সেতু’। চলতি মাসের শেষের দিকে ওই অ্যাপের উদ্বোধন হওয়ার কথা। কিন্তু তার আগে শুক্রবার আইআইটি খড়্গপুরে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের অক্টোবর মাস থেকে এখনও পর্যন্ত আইআইটি খড়্গপুর ক্যাম্পাসে সাত জন পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু হলো। এর মধ্যে চলতি বছরেই এখনও পর্যন্ত চারজন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সাওন মালিক, ২০ এপ্রিল অনিকেত ওয়ালকার, ৪ মে মহম্মদ আসিফ কামার এবং শুক্রবার, ১৮ জুলাই ঋতম মণ্ডলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল।

Be the first to comment