রোজদিন ডেস্ক: রাজ্যের শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পুজোয় আমিষ খাওয়ার (Non veg food in pujo) বিরুদ্ধে তোপ দেগে আপামর বঙ্গবাসীর কোপে পড়েছেন তিনি। মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর বাবার এই ফতোয়ার বিরুদ্ধে তেড়েফুঁড়ে নেমেছে প্রদেশ কংগ্রেস। কলকাতা উত্তর, দক্ষিণে বিশিষ্ট নেতারা বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে থানায় এফ আই আর দায়ের করেছেন। আশুতোষ চ্যাটার্জি, প্রদীপ প্রসাদ, তারক পাল প্রমুখ নেতারা উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার থানাগুলিতে বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে এই রাজ্যের সংস্কৃতি, সম্প্রীতি নষ্ট করার প্রয়াস হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নির্দেশে দলের নেতারা এই সব এফআইআর দায়ের করে পরিস্কার জানিয়ে দেন, অন্য রাজ্যের সাধুর ফতোয়া এখানে কোনভাবে চলবে না। প্রয়োজনে তাঁরা এর বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন করবেন।

পুজোর সময় আমিষ খাওয়া বঙ্গবাসীকে উনি “পাখন্ডী ” ( পাপী! ) বলার তীব্র নিন্দা করেছেন শুভঙ্কর সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য সভাপতির বক্তব্য কে তিনি বিজেপি-র দ্বিচারিতা বলে তোপ দাগেন। মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে ওই বাবাকে আপ্যায়িত করেছেন তার নিন্দা করেন।
বাগেশ্বর বাবার এই ফতোয়ার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে তোপ দেগেছেন তৃণমূল, সিপিএম নেতারাও।
তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ এর জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেন। সিপিএম নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, অন্য রাজ্য থেকে এসে রাজ্যে কে কি খাবে, তা বলার উনি কে? রাজ্যের দীর্ঘ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি না জেনে এই সব বক্তব্য রাখার তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। এক ই কথা বলেন এসএফআই নেতা দেবাঞ্জন দে।
বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর সুরে সুর মিলিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও পুজোর সময় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার বক্তব্য খারিজ করে দেন।
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, আম বাঙালি সারা বছর পুজোর দিনগুলিতে রেস্তোরাঁ, হোটেলে ভাল আমিষ খাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। যাঁরা এখানকার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য জানেন না, তাঁরা নিজেদের মত করে কথা বলতেই পারেন। কিন্তু এখানে কে কি খাবেন, তা সম্পুর্ন তাঁদের নিজের ব্যাপার। বাইরের কেউ তা ঠিক করে দিতে পারেন না।
পৃথকভাবে এক ই কথা বলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও। তাঁর বক্তব্য, এখানকার সংস্কৃতি যাঁরা জানেন না, তাঁদের কথা শোনার দরকার কি! এখানে যার যেমন ইচ্ছা তিনি তাই খাবেন।
কংগ্রেস এর বক্তব্য, রাজ্যের মানুষকে অপমান করেছেন বাগেশ্বর বাবা। কেন ওঁকে গ্রেফতার করা হবে না?
বাগেশ্বর বাবার এই সব মন্তব্য নিয়ে তরজা চলছে, চলবে ও বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করেন।

Be the first to comment