রোজদিন ডেস্ক : আজ শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি রাজবংশী সমাজের শ্রদ্ধেয় ও পথপ্রদর্শক মহান পঞ্চানন বর্মার জন্মবার্ষিকী। এই উপলক্ষে এদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে তুলে ধরলেন পঞ্চানন বর্মার স্মৃতি রক্ষার্থে এবং রাজবংশী সমাজের কল্যাণে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা। তাঁর মধ্যে অন্যতম পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে তাঁকে নিয়ে একটি সংগ্রহশালা ও গবেষণাগার। তাঁর জন্মদিন আজ সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। রাজবংশী ভাষাকে স্বীকৃতি-সহ একাধিক উদ্যোগের কথা এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন মুখ্যমন্ত্রী। এক্স হ্যান্ডলে এক পোস্টে তিনি লেখেন,
“রাজবংশী সমাজের মহান পথপ্রদর্শক, রায়সাহেব ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার জন্মবার্ষিকীতে এই প্রবাদপ্রতিম মনীষীকে জানাই আমার বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রণাম।
রাজবংশী সংস্কৃতির বিকাশ এবং ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করতে আমাদের সরকার দায়বদ্ধ। তাঁর সম্মানে আমরা অনেকগুলি পদক্ষেপ করেছি।
আমরা কোচবিহারে পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি এবং তাঁর জন্মস্থান খলিসামারির পুণ্যভূমিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস চালু করা হয়েছে। তাঁর বাসভবন সংস্কার করে আমরা ‘পঞ্চানন বর্মা সংগ্রহশালা ও গবেষণাকেন্দ্র’ নামে একটি মিউজিয়াম গড়ে তুলেছি এবং সেখানে তাঁর একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। তাঁর জন্মতিথিকে আমরা রাজ্যে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেছি।
এ প্রসঙ্গে বলি, রাজবংশী ভাইবোনদের সামগ্রিক উন্নতির লক্ষে আমাদের সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
কোচবিহারের ঐতিহ্যশালী ”নারায়ণী সেনা’র স্মরণে রাজ্য পুলিশে বিশেষ ‘নারায়ণী’ ব্যাটেলিয়ন গঠন করা হয়েছে।
রাজবংশী ভাষাকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি কামতাপুরী, সাঁওতালী, কুরুখ, কুড়মালী, নেপালী, হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবী ও তেলুগু ভাষাকেও আমরা সরকারি মর্যাদা দিয়েছি। সাদরি ভাষার মানোন্নয়নেও আমাদের বিশেষ উদ্যোগ রয়েছে। রাজবংশী সমাজের কৃষ্টি রক্ষায় আমরা রাজবংশী ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, রাজবংশী কালচারাল একাডেমি, রাজবংশী ভাষা একাডেমি এবং কামতাপুরী ভাষা একাডেমি গঠন করেছি। প্রায় ২০০টি রাজবংশী স্কুলকে সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
কোচ-রাজবংশী বীরত্বের প্রতীক বীর চিলারায়ের স্মরণে কোচবিহারের বাবুরহাটে তাঁর একটি ১৫ ফুট উঁচু ব্রোঞ্জ মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। তাঁর জন্মদিনে উত্তরবঙ্গে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে আমাদের সরকার।
কোচ-কামতাপুরী-রাজবংশী ঐতিহ্যের গুরুত্ব বিচার করে সমগ্র কোচবিহার শহরকে ‘হেরিটেজ সিটি’ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

Be the first to comment