বড়বাজারের অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের ২ লক্ষ, আহতদের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য প্রধানমন্ত্রীর, শোকপ্রকাশ রাহুলের, দিঘা থেকে পরিস্থিতির উপর নজর মমতার

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- বড়বাজারের মেছুয়া বাজারের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত বেড়ে ১৪। সেই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সঙ্গে এদিন মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেন। এছাড়াও আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য করা হবে। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে এই আর্থিক সাহায্য করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন প্রধানমন্ত্রীর এক্স হ্যান্ডেলের মাধ্যমে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। বড়বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শোনার পরেই উদ্বিগ্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দিঘা থেকে ফোনে পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছেন। অন্যদিকে, সমবেদনা জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতার রাহুল গান্ধীও।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বড়বাজারের মদন মোহন মেছুয়াবাজার ফলপট্টির একটি হোটেলে আগুন লাগে। খবর পেয়েই দ্রুত পুলিশ ও দমকলকর্মীরা পৌঁছন। ঘিঞ্জি এলাকায় ওই হোটেল হওয়ায় প্রথম দিকে সমস্যায় পড়েছিলেন দমকলকর্মীরা। প্রতিকূলতার মধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় আগুন নেভানোর কাজ। যদিও ভোর রাত পর্যন্ত সেই আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিলেন পুরমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী শশী পাঁজা-সহ অন্যান্যরা।
আগুন লাগার পর এক হোটেলকর্মী প্রাণ বাঁচাতে উপর থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। যদিও পরবর্তী সময়ে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। একে একে ১৪টি মৃতদেহ ওই অভিশপ্ত হোটেল থেকে উদ্ধার হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ, একজন মহিলা আছেন। এছাড়াও ২জন শিশু মারা গিয়েছে। আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত আটটি মৃতদেহ শনাক্ত হয়েছে। মৃতদেহগুলি আর জি কর হাসপাতাল, এন আর এস ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঘটনায় শোকের ছায়া সব মহলে। এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শোকপ্রকাশ করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে বাংলাতেই শোকবার্তা দিয়েছেন তিনি। টুইট বার্তায় লেখা হয়েছে, “কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় আমি মর্মাহত। যারা প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাঁদের সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের প্রত্যেকের নিকটাত্মীয়কে ২ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।”
এদিকে মঙ্গলবার রাতেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম। গিয়েছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। ফিরহাদ হাকিম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই মুখ্যমন্ত্রী দিঘা থেকে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন।
এছাড়াও, সমবেদনা জানিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘কলকাতার একটি হোটেলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অনেক লোকের মৃত্যুর খবর অত্যন্ত দুঃখজন। সমস্ত শোকাহত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের দ্রুত সুস্থ হওয়ার আশা করছি।’
উল্লেখ্য, কলকাতা পুলিশ কমিশনার জানিয়েছন, হোটেল মালিক পলাতক। তাঁর খোঁজ চলছে। আজ অর্থাৎ বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যেই তদন্তে সিট গঠন করছে কলকাতা পুলিশ। কীভাবে আগুন লাগল? আগুন নেভানোর জন্য কোনও সুরক্ষার ব্যবস্থা ছিল কি? সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*