রোজদিন ডেস্ক : অপারেশন সিঁদুর ভারতের ইতিহাসে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় এবং সফল অভিযান, শনিবার ভোপালে রানি অহল্যাবাই হোলকারের ৩০০ তম জন্মবার্ষিকীতে ‘নারী স্বশক্তিকরণ মহা সম্মেলনে’ অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এদিন তিনি বলেন, ‘জঙ্গিরা নারীশক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে নিজেদের ধ্বংস ডেকে এনেছে। পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং সফল অভিযান হল অপারেশন সিঁদুর। এটা এখন বীরত্বের প্রতীক।’
মোদির সংযোজন, ‘পহলগামে জঙ্গিরা কেবল রক্তপাতই ঘটায়নি, তারা আমাদের সংস্কৃতিকে আক্রমণ করেছে। তারা আমাদের সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টা করেছে। ওরা নারীশক্তিকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। এটাই জঙ্গি এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের জন্য ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
জঙ্গি সংগঠনগুলির উদ্দেশ্যে চরমবার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে ছায়া যুদ্ধ আর সহ্য করা হবে না। আমরা ওদের ঘরের ভেতরে ঢুকে মারব (ঘর মে ঘুষ কে মারেঙ্গে)। যারা সন্ত্রাসবাদীদের সাহায্য করবে, তাকেও এজন্য চরম মূল্য দিতে হবে।’
এদিন সহকারী কমান্ড্যান্ট নেহা ভান্ডারির বীরত্বের কথাও তুলে ধরেন মোদি। সহকারী কমান্ড্যান্ট নেহার নেতৃত্বেই বিএসএফের একটি মহিলা দল তিন দিন ধরে আখনুরে তাদের পোস্টগুলি রক্ষা করেছিল। সেই সময় টানা গোলাবর্ষণ করছিল পাক সেনা।
নারী শক্তিকে সম্মান জানিয়ে মোদি বলেন, ‘আজ গোটা বিশ্ব ভারতীয় নারীদের শক্তি প্রত্যক্ষ করছে। আমাদের বিএসএফ-কন্যারা সীমান্ত রক্ষা করেছেন এবং অপারেশন সিঁদুরের সময় শত্রুপক্ষকে উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন।’
প্রসঙ্গত, ২২ এপ্রিল পহলগামের বৈসরন উপত্যকায় জঙ্গিদের গুলিতে ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর প্রত্যাঘাত হানে ভারত। পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশ ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ৮০-১০০ জন জঙ্গির মৃত্যু হয় প্রত্যাঘাতে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের তরফে ভারতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। সেগুলি প্রতিহত করলেও পাক গোলাবর্ষণে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ভারতীয় গ্রামগুলিতে বেশ কিছু বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

Be the first to comment