রোজদিন ডেস্ক : বিজেপি-শাসিত অসমে এখন রবীন্দ্রসংগীত গাওয়াও অপরাধ হিসাবে গণ্য হচ্ছে? ১৯০৫ সালে বাংলা বিভাজনের প্রস্তাব নিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর “আমার সোনার বাংলা ” গান লিখেছিলেন, পরবর্তীকালে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে এই গানকে তাদের জাতীয় সংগীতের মর্যাদা দেয়।
অসমের শ্রীভূমি জেলায় বর্ষীয়ান কংগ্রেস কর্মী বিধুভূষণ দাস দলের এক সভায় এই গানটি আবৃত্তি করায় ক্ষিপ্ত মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি ওই জেলায় কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা, দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তাঁদের অভিযোগ, বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গেয়ে তাঁরা দেশদ্রোহিতার কাজ করেছেন।
এই অদ্ভুত নির্দেশে হতবাক কংগ্রেস নেতৃত্ব জানান, অন্য কোন বিষয় না থাকায় বিজেপি এখন অহেতুক বিতর্ক তৈরি করছে।
বাঙালি অধ্যুষিত করিমগঞ্জের এই ঘটনা নিয়ে অসমে আলোড়ন উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও তাঁর অনুগামীদের অভিযোগ, অসমকে বাংলাদেশের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমার সোনার বাংলা গানটি করলেই জেলে পুরে দেওয়া হবে বলেও তিনি হুমকি দেন।
কংগ্রেস নেতা গৌরব গগই এর তীব্র নিন্দা করে বলেন, বিজেপি বরাবরই বাঙালি বিরোধী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শের ও বিরোধী এই দল। কবিগুরুর সৃষ্টি সারা পৃথিবীতে সমাদৃত। বাংলাদেশ এই গান জাতীয় সংগীত করায় এখানে তা গাইলে দেশদ্রোহিতা হয়ে গেল?? এরপর বাংলায় কথা বললেও তাদের জেলে পুরবে বিজেপি সরকার!
অসম সিপিএম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে। দলের রাজ্য সম্পাদক সুপ্রকাশ তালুকদার রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন,বিশ্বমানবতাবাদের মহান প্রবক্তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি বিজেপির চক্ষুশূল। কবিগুরু মানবতার জয়গান গেয়েছেন, যা ওদের রাজনৈতিক আদর্শের বিরোধী। তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান।
প্রসঙ্গত, বিজেপি ক্ষমতায় এসে অসমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনের ছুটি বাতিল করেছে।
অথচ রাজনৈতিক স্বার্থে তারাই গত বছর করিমগঞ্জকে শ্রীভূমি নাম দিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। কবিগুরু সিলেট সফরে গিয়ে একটি কবিতায় সুন্দরী শ্রীভূমি লেখায় তারা এই নাম দেয়।
বিশ্বকবির রচনা নিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর এই মনোভাবে বিস্মিত এখানকার মানুষজনও।

Be the first to comment