‘ইংরেজি ভাষায় কথা বলা লজ্জাজনক’ শাহের মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করলেন রাহুল, ডেরেক

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- দেশের উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় থেকে শুরু করে বিজেপি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকগুলির দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের অধিকাংশই বিদেশে পড়াশোনা করেছেন। তাঁরা বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পড়ুয়া। এমন একটি দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘ইংরেজি ভাষায় কথা বলা লজ্জাজনক’ মন্তব্যটি দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। তাঁর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়াশোনার খতিয়ান তুলে ধরেছেন।
কংগ্রেস সাংসদ রাহুলের পাশাপাশি তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, কেরলের দুই মন্ত্রী আর বিন্দু ও ভি শিবনকুট্টিও শাহের কড়া সমালোচনা করেছেন। রাহুল গান্ধি পোস্টে লিখেছেন, “ইংরেজি বাঁধ নয়, সেতু। ইংরেজি লজ্জা নয়, শক্তি। শৃঙ্খলা নয়, বন্ধন ভাঙার হাতিয়ার।”
বিজেপি-আরএসএস-এর ইংরেজি-বিরোধী মানসিকতার উল্লেখ করে রাহুল লিখেছেন, “বিজেপি-আরএসএস চায় না, দেশের গরিব শিশুরা ইংরেজি শিখুক। কারণ তারা চায় না যে, আপনারা প্রশ্ন করুন, এগিয়ে যান এবং দেশে সাম্য প্রতিষ্ঠা হোক। বর্তমানে বিশ্বে ইংরেজি ভাষা একজনের মাতৃভাষার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। এই ভাষা শিখে মানুষ চাকরিতে সুযোগ পায়। তাঁর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। ভারতের প্রতিটি ভাষার একটি আত্মা আছে, সংস্কৃতি ও জ্ঞান আছে। আমাদের তা স্মরণে রাখতে হবে এবং একই সময়ে প্রতিটি শিশুকে ইংরেজি শেখাতে হবে। এই রাস্তা দিয়েই একজন ভারতীয় বিশ্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। প্রত্যেক শিশুকে সমান সুযোগ দেয়।”
এই পোস্টের সঙ্গে একটি ভিডিয়োয় রাহুল অন্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়াশোনা করেছেন, এমন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের তালিকা তুলে ধরেছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন- উপ-রাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনকড়, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী সীতারামন, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জিতেন্দ্র সিং, শিবরাজ সিং চৌহান, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, ধর্মেন্দ্র প্রধান, এমনকী বিজেপি সভাপতি তথা মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও অন্যরাও।
এদিনই তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ‘ব্রায়েন ‘নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান’-এর কথা তুলে ধরেছেন। তিনি ভিডিয়ো বার্তায় বলেন, “ভারতের ৯৭ শতাংশ মানুষ সংবিধান স্বীকৃত ২২টি ভাষার মধ্যে একটি ভাষায় কথা বলে। ভারতে ১৯ হাজার ৫০০টি ভাষা ও উপভাষা (ডায়ালেক্ট) আছে। এটাই আমাদের মহান দেশের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য। অমিত শাহ, প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং তাদের গ্যাং এটা কোনও দিন বুঝতে পারবে না।”
ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) পরিচালিত কেরল সরকারের দুই মন্ত্রী আর বিন্দু এবং ভি শিবনকুট্টি অমিত শাহের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁরা এই মন্তব্যকে ‘নিয়ন্ত্রিত এবং সংকীর্ণ মানসিকতা’র পরিচয় বলে সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি তামিল ভাষা থেকে কন্নড় ভাষার জন্ম মন্তব্যে বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিনেতা কমল হাসান। মহারাষ্ট্রের স্কুলগুলিতে হিন্দি ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসাবে পড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে বিরোধী দলগুলি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*