রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- প্রয়াত বিশিষ্ট সাংবাদিক বিশ্বজিৎ রায়। বেশ কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন, চিকিৎসা চলছিল। মাত্র কয়েকদিন আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার, ভোরে বালিগঞ্জের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বর্ষীয়ান সাংবাদিক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। রেখে গেছেন দুই পুত্রকে। তাঁর স্ত্রী সাংবাদিক দেবযানী রায় আগেই প্রয়াত হয়েছেন।
রাজ্যের সংবাদজগতে অত্যন্ত পরিচিত নাম বিশ্বজিৎ রায়। বন্ধু ও সাংবাদিক মহলে ‘মধু’ নামে বেশি পরিচিত ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন আনন্দবাজার, টেলিগ্রাফ, টাইমস অফ ইন্ডিয়ার মতো বাংলা ও ইংরেজি প্রথম সারির একাধিক সংবাদপত্রে কাজ করেছেন। সংবাদ সংগ্রহ এবং তার বিশ্লেষণে বার বার নিজের জাত চিনিয়ে এসেছেন বিশ্বজিৎ রায়। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও দিল্লি-সহ একাধিক শহর ও রাজ্যে সাংবাদিকতা করেছেন তিনি। সাংবাদিক ছাড়া প্রাবন্ধিক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। তাঁর লেখা একাধিক বই প্রশংসা কুড়িয়েছে। তরুণ বয়সে নকশাল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকতার পাশাপাশি মানবাধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। যুক্ত ছিলেন শ্রমিকের অধিকার রক্ষার নানা উদ্যোগের সঙ্গেও। সম্প্রতি বেশ কিছুদিন ধরেই রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে গবেষণার কাজে শান্তিনিকেতনে থাকছিলেন তিনি। বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন বিশ্বজিৎ রায়।
তাঁর প্রয়ানে শোকোস্তব্ধ গোটা সাংবাদিক মহল। বৃহস্পতিবার বেলা তিনটে নাগাদ কলকাতা প্রেস ক্লাবে নিয়ে আসা হয় তাঁর মরদেহ। কলকাতা প্রেস ক্লাবের তরফ থেকে মাল্যদান করেন সভাপতি স্নেহাশিস শূর এবং সম্পাদক কিংশুক প্রামাণিক। এরপর কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

Be the first to comment