SRFTI CAMPUS: এসআরএফটিআইয়ে অচলাবস্থা অব্যাহত, বাড়ানো হল ক্যাম্পাস ও হস্টেল বন্ধের মেয়াদ

Spread the love

প্রতিবেদন : সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট বা এসআরএফটিআই-এ অচলাবস্থা জারি। এবার বাড়ানো হল ক্যাম্পাস ও হস্টেল বন্ধের মেয়াদ। পড়ুয়াদের আন্দোলনের জেরে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হওয়া অচলাবস্থার কোনও সমাধান এখনও হল না। উল্টে আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্পাস সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার এবং পড়ুয়াদের অবিলম্বে হস্টেল খালি করার ফতোয়া জারি করল কর্তৃপক্ষ। গোটা ঘটনায় পড়ুয়ারা সংস্থার প্রশাসনের অযোগ্যতা এবং দমম নীতির দিকে আঙুল তুলে সরব হয়েছেন। তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে পড়ুয়াদের মধ্যে। গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে বহিরাগত ও একটি দক্ষিণপন্থী সংগঠনের সঙ্গে পড়ুয়াদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এসআরএফটিআই ক্যাম্পাস। এরপর থেকেই ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একাধিক ঘটনার দায় নিয়ে উপাচার্য সন্তোষ আজমেরা-র পদত্যাগের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন ও ক্লাস বয়কট শুরু করেন পড়ুয়ারা। আন্দোলন চলাকালীন উপাচার্যের কার্যালয় ভাঙচুর, আধিকারিকদের নিগ্রহ এবং দেওয়ালে আপত্তিকর গ্রাফিতি আঁকার পাল্টা অভিযোগ তোলে কর্তৃপক্ষ। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ইতিপূর্বেই বেশ কয়েকজন পড়ুয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ জারির পর হস্টেল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও, আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের একাংশ ক্যাম্পাস ছাড়তে নারাজ। ইতিমধ্যেই হস্টেলে পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পড়ুয়াদের। এই পরিস্থিতিতে বাইরের রাজ্য থেকে আসা বহু পড়ুয়া বিকল্প কোনও বাসস্থান না পেয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরেই অস্থায়ী তাঁবু খাটিয়ে দিন কাটাচ্ছেন এবং নিজেদের মতো করে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। পড়ুয়াদের আরও অভিযোগ, ক্যাম্পাসে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না পেরে উল্টে আন্দোলনকারীদেরই কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে। তাদের বেশ কয়েকজনকে ইতিমধ্যে বহিষ্কারও করেছেন কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের দাবি, এই ধরনের রাতারাতি উচ্ছেদ বা ক্যাম্পাস ছাড়ার ফরমান পড়ুয়াদের নৈতিক মনোবল ভেঙে দেওয়ার একটা চেষ্টা মাত্র, তবে তাঁদের এই আন্দোলন ও অবস্থান বিক্ষোভ চলবে। পড়ুয়াদের এই আন্দোলনের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন একাধিক প্রাক্তনী সহ চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্টরা।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*