রোজদিন ডেস্ক : রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুক্তি পাচ্ছেন সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন। ২০১৩ সালের মে মাসে কাশ্মীর থেকে সংস্থার পদস্থ আধিকারিক দেবযানী মুখার্জিকে গ্রেফতার করে আনে রাজ্য পুলিশ। এই রাজ্য-সহ অন্য রাজ্যেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ ছিল। যা নিয়ে তোলপাড় ওঠে রাজ্যে। সেই থেকে কারাবন্দি তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে ৩৮৯টি মামলা চলছিল। এর আগে ৩৮৭ টি মামলায় তিনি জামিন পান।
বাকি ছিল দুটি মামলা। গতকালই সুদীপ্ত সেনের দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকা নিয়ে উচ্চ আদালতের বিচারপতি রাজর্ষি ভতদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ বিস্ময় প্রকাশ করেন। আজ বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষে তাঁকে জামিন দেওয়া হয়। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল কারামুক্তি হবে সুদীপ্ত সেনের।
সারদা সংস্থা ও তার মালিক সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রতারণা মামলা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও তোলপাড় উঠেছিল। প্রাক্তন বিরোধী নেতা আবদুল মান্নান এর সিবিআই তদন্তের দাবিতে শীর্ষ আদালতেও যান। তাঁর হয়ে বিনা ব্যয়ে মামলা লড়েছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে সি বি আই এর তদন্তভার নেয়। সেই থেকে এই রাজ্য সহ অন্য রাজ্যেও সারদা মামলা চলতেই থাকে। বিশাল এই প্রতারণার ঘটনায় বহু সাধারণ মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছিলেন।। গ্রাহক দের টাকা দিতে না পেরে সারদা সংস্থা র বহু এজেন্ট, সর্বস্ব হারিয়ে বহু মানুষ আত্মঘাতীও হন। সব মিলিয়ে সারদা রাজ্যের ইতিহাসে এক বহু চর্চিত কলঙ্কময় অধ্যায় হয়ে ওঠে।
সুদীপ্ত সেনের জামিনে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছেন বিচারপতি। এর মধ্যে আছে, তাঁর পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে। রাজ্যের বাইরে গেলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। বাড়ির ঠিকানা পাল্টালে তা তদন্ত কারী আধিকারিককে জানাতে হবে। তিনি আর কোন আর্থিক ব্যবসায় জড়িয়ে থাকতে পারবেন না। প্রভাবিত করতে পারবেন না সাক্ষীদের। মোবাইল সব সময় “লাইভ লোকেশনে” চালু রাখতে হবে। প্রতি মাসে তাঁকে একবার থানায় হাজিরা দিতে হবে। সুদীপ্ত সেনকে বিচার প্রক্রিয়ায় সবরকম সহযোগিতা ও করতে বলেছে উচ্চ আদালত।
সূত্রের খবর, সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে ৩৮৯ টি মামলায় ২টি ছাড়া সবেতেই তাঁর জামিন হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় চার্জশিট দেওয়ার পর ১০ বছর ধরে ও কোন কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। অপর মামলার মূলনথিই হারিয়ে গেছে। ফলত এই দুই মামলায় বিচার কার্যত বন্ধ।
সুদীপ্ত সেনের আইনজীবী সাবির আহমেদ ও সুজয় সরকার আদালতে জানান, উনি গুরুতর অসুস্থ, এত দিন কারাবন্দি থাকা সম্ভাব্য শাস্তির থেকেও বেশি।
সিবি আই ও জানিয়ে দেয়,তাদের তদন্ত প্রায় শেষ। সুদীপ্ত সেন কে কারান্তরালে না রাখলে ও চলে।
রাজ্যের পক্ষেও বলা হয়, কঠোর শর্ত সাপেক্ষে ওঁকে মুক্তি দেওয়া যায়।
উচ্চ আদালত দীর্ঘ দিন চলা এই গুরুত্বপূর্ণ মামলা কে বিচার ব্যবস্থা র ব্যর্থতা বলে মনে করে বলে সূত্রে র খবর। মামলার নথি হারানো, দীর্ঘ ১০ বছর পরেও কাগজ পত্র না দেওয়ার বিষয়ে ও আদালত উদ্বেগ ব্যক্ত করেছে। তাঁর জামিন পাওয়া উচিত বলে উচ্চ আদালত মনে করে। বিচার পতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের বেঞ্চ ৫ হাজার টাকার বন্ডে দুজন জামিনদার মারফত তিনি জামিন পাবেন বলে নির্দেশ দিয়েছেন। এর পাশে, একটি মামলার হারানো নথি পুনর্গঠন করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতে প্রতিদিন বিচার চালানোর চেষ্টাও করতে হবে।
চাঞ্চল্যকর এই সাড়াজাগানো মামলায় রাজনৈতিক মহলেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়। বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, তাঁরা চান এর সত্যি সামনে আসুক।
সারদা মামলায় নাম জড়িয়েছিল তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের। এই বিষয়ে তিনি জানান, এটি আইন আদালতের ব্যাপার। সুদীপ্ত সেনের জামিনের আবেদন আদালত মঞ্জুর করেছে।
তৃণমূলের তরুণ নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য এর নেপথ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি থাকতে পারে বলে মনে করেন।
রাজ্যের হাই ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের আগে সারদা কর্তার জামিনে মুক্তি নতুন মাত্রা যোগ করলো বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।

Be the first to comment