প্রতিবেদন: রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরলতম ঘটনা। ছাব্বিশের রক্তপাতহীন বিধানসভা নির্বাচন। ভোট দানের হারে রেকর্ড। এই জোড়া কৃতিত্বের স্বীকৃতি মিলেছে খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছ থেকে। দ্বিতীয় দফার ভোটের শেষে একই সঙ্গে সন্তুষ্ট ও আত্মবিশ্বাসী রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, নির্বাচন রকেট সায়েন্স নয়। পরিকল্পনা ও সমন্বয় থাকলে তা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব। দ্বিতীয় দফায় রাজ্যে প্রায় ৪১ হাজার বুথে ভোটগ্রহণ হয়েছে এবং সামগ্রিক ভোটদানের হার পৌঁছেছে ৯২.৪৭ শতাংশে। প্রথম দফার সঙ্গে একপ্রকার প্রতিযোগিতা চলেছে দ্বিতীয় দফার। সারাদিনে মোট ৬৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে নির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার ১৯ জন। পূর্ব বর্ধমান ও ব্যারাকপুরে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেশি। তবে এত কিছুর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য বিষয় এ বারের ভোটে কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, হয়নি কোনও বিস্ফোরণও। অতীতের নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি স্পষ্ট করেন, এই দিক থেকে ২০২৬ একেবারেই ব্যতিক্রমী। তবে একেবারে অভিযোগশূন্য ছিল না এই নির্বাচন। ইভিএমে টেপ লাগানোর অভিযোগ উঠেছে মোট ৭৭টি ক্ষেত্রে— যার মধ্যে ফলতা, মগরাহাট ও ডায়মন্ড হারবার উল্লেখযোগ্য। কিছু জায়গায় এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ এসেছে। তিনি স্বীকার করেন, আমাদের ভুলভ্রান্তি ছিল, সেগুলো ওভারকাম করার চেষ্টা করছি। কিছু বুথে পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, বিশেষত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান এবং ব্যারাকপুর অঞ্চলে। তিনি আরও জানান, প্রায় ৯৫ শতাংশ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং লাইনে থাকা বাকি ভোটারদের ভোট নেওয়া চলছিল, যার উপর কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি নজর রাখা হয়। হিংসা না হওয়াকে সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে তিনি সমস্ত রাজনৈতিক দলকেও কৃতিত্ব দেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মৃত্যু হলে রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতো।সেই জায়গায় এ বার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। সংবাদমাধ্যম, প্রশাসনিক কর্মী, নিরাপত্তা বাহিনী থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটার, সকলকেই ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচন আসলে একটা উৎসব, যেখানে মানুষের অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় শক্তি।

Be the first to comment