নিজস্ব প্রতিনিধি, নদীয়া :
নদিয়ার শান্তিপুর থানার অন্তর্গত ফুলিয়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় সরকারি রেশনের চাল পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রবিবার ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় পাচারের আগেই হাতেনাতে ধরা পড়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল। ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। পাশাপাশি গোটা চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুরে ফুলিয়া স্টেশন রোডের একটি গোডাউনে একটি ট্রাকে চাল তোলার কাজ চলছিল। সেই সময় এলাকাবাসীর সন্দেহ হয় গোডাউনের ভিতরে অস্বাভাবিক কিছু ঘটছে। অভিযোগ, সরকারি রেশনের জন্য নির্ধারিত লোগো ও স্টিকার লাগানো চালের বস্তাগুলি গোডাউনের ভিতরে নিয়ে গিয়ে অন্য বস্তায় ভরে পুনরায় ট্রাকে তোলা হচ্ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা ট্রাকটি আটকে দেন এবং গোডাউনের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শান্তিপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে আসেন শান্তিপুর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও), খাদ্য দফতরের আধিকারিক এবং প্রশাসনের অন্যান্য প্রতিনিধিরা। গোডাউনে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৬০০ বস্তা চাল উদ্ধার হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া চালের অধিকাংশ বস্তাতেই সরকারি রেশনের চিহ্ন ছিল বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থল থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এই চাল অন্য জেলায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল। স্থানীয়দের দাবি, উদ্ধার হওয়া চাল বস্তাবন্দী করে বীরভূমের উদ্দেশ্যে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। কীভাবে সরকারি রেশনের চাল বস্তা বদল করে কালোবাজারে পাচারের চেষ্টা হচ্ছিল, তা নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
এদিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিজেপির একাধিক নেতৃত্বও। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট গোডাউনের মালিক বর্তমানে পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া চাল কোথা থেকে এসেছে, কোন কোন রেশন ডিলারের সঙ্গে এর যোগ রয়েছে এবং এর পেছনে বড় কোনও পাচার চক্র সক্রিয় কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ গোডাউন চত্বরে মোতায়েন রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে গোডাউনটি সাময়িকভাবে সিল করে দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
ছবি : কাজল বসাক

Be the first to comment