রোজদিন ডেস্ক : ক্ষমতাবলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের উপর সন্ত্রাস চালাচ্ছে বিজেপি। তৃণমূলের নেতা-কাউন্সিলরদের গ্রেফতার করছে অধিকারীর পুলিশ। লুট হয়েছে তৃণমূলের প্রায় ২ হাজার কার্যালয়। রবিবার ফেসবুক লাইভে এসে ফুঁসে উঠলেন তৃণমূলমেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, যদি চেয়ার বলে, আমি আড়াই হাজার লোককে জেলে পুরব, তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের জন্য আলাদা জেল তৈরি হয়েছে, আমি তো মনে করি, তার আগে জেলে যাওয়া উচিত। সারদা থেকে নারদা, কোথায় নেই তিনি? আজ যাঁরা অর্ডার দিচ্ছেন, তাঁরাই তো আউট অফ অর্ডার!
রবিবার ফলতা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নিশান করে তিনি বলেন, ভবানীপুরে কী ভাবে জিতেছেন? সেটা আদালতে বলব। আপনার যদি সাহস থাকে তো ফরেন্সিক রিপোর্ট করান। ইভিএমের রিপোর্ট চাই আমাদের। আপনারা এজেন্টদের আইডি কার্ড কেড়ে নিয়েছেন। আমার কেন্দ্রে আমি যখন খবর পেয়েছি। আমি ১৩ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলাম। যিনি এখন গদিতে বসেছেন, তাঁর নাম করতে আমার ভাল লাগে না। তাঁকে আমরা অনেক দিন ধরে চিনি। তিনি নিজে ভোট লুট করছিলেন। আমাকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। হারের জায়গায় জেতা, জেতার জায়গায় হারা, এই পাশাটাই উল্টেছে প্রায় দেড়শো সিটে। সেটা না হলে আমরা ২২০ থেকে ২৩০ আসন পেতাম। প্রশাসনকে নিশানা করে বলেন, আমিও প্রশাসন চালিয়েছি। আমরা ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে মোড়ে মোড়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজিয়ে ছিলাম। আমাকেই রবীন্দ্রজয়ন্তী করতে দেয়নি। আজ একটা মিটিং করতে গেলে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিদিন আমাদের নির্বাচিত কাউন্সিলরদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। পুরসভার ঘরগুলো গুন্ডারা দখল করছে। আড়াই হাজারের বেশি পার্টি অফিস লুম্পেনরা দখল করেছে। পুলিশে অভিযোগ করতে গেলে বলছে, ইনস্ট্রাকশন আছে! প্রথম কথা, কোনও রাজ্যে লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি হয়নি। শুধু এ রাজ্যেই হয়েছে। জেনেশুনে ৬০ লক্ষ লোকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। আমরা লড়াই করে ৩২ লক্ষের নাম তুললেও ২৭ লক্ষ এবং পরে বিজেপি আরও সাত লক্ষ নাম জমা দিয়েছিল। তার পর রিগিং হয়েছে। যিনি এখন চেয়ারে বসেছেন, তাঁর তো ওই চেয়ারে বসারই কথা নয়। ভোটলুট করে রাজশাসন করছে। তিনি কী করে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বুঝবেন। ক্ষমতায় এসে বুলডোজার চালিয়ে মানুষের জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে এরা। এটা কী ধরনের সরকার!

Be the first to comment