দাড়িভিট কাণ্ডের পর বিজেপি-র ডাকা বনধের দিনই সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। আটকাতে চেষ্টা করেছিল বিজেপি। কিন্তু সে সব ডিঙিয়ে সভা করে ছেড়েছিলেন ইসলামপুরের মাটিতে। বলেছিলেন, “লক্ষণ শেঠের সিপিএম আমাকে ১১ বার নন্দীগ্রামে ঢুকতে বাধা দিয়েছিল। পারেনি। এখানেও বিজেপি পারবে না।” পুজোর আগে ইসলামপুর কোর্ট ময়দানে সভা করে বাংলার শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সে দিনই পাল্টা সভা স্থির হয়ে গিয়েছিল। শনিবার উপচে পড়া ওই কোর্ট ময়দানে সভা করেই বিজেপি-কে তুলোধনা করলেন পরিবহণ ও পরিবেশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সেপ্টেম্বর মাসে ইসলামপুরের দাড়িভিট হাইস্কুলে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে জনতার বিক্ষোভে গুলি চালানোর ঘটনায় মৃত্যু হয় রাজেশ সরকার এবং তাপস বর্মনের। দুই তরুণের মৃত্যুতে সরগরম হয়ে উঠেছিল রাজ্য রাজনীতি। অভিযোগ, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে দুই তরুণের। পরে অবশ্য সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়নি রাজেশ এবং তাপসের। শাসক দলের তরফে শুরু থেকেই দাবি করা হয়েছিল, দাড়িভিটে গোটা ঘটনা ঘটিয়েছে আরএসএস। লোক এনেছিল বাইরে থেকেও। কিন্তু বিজেপি আদা-জল খেয়ে নেমেছিল সেই সময়। আর গেরুয়াবাহিনীকে ঠেকাতে শুরু থেকেই শাসক দলের অস্ত্র ছিলেন শুভেন্দু।
এ দিনের সভা থেকে বিজেপি-র বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন শুভেন্দু। উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের ডাকা সমাবেশ মঞ্চ থেকে পরিবহণমন্ত্রী বলেন, “দীপাবলী মিটে যাবে, ধনতেরাস মিটে যাবে, তারপর হাজার হাজার মানুষকে নিয়ে পাঁচ কিলোমিটার পদযাত্রা করে ব্রিগেডের প্রচার শুরু করব। এসো আরএসএস, এসো বিজেপি, কত ক্ষমতা লড়ে দেখে নেব।”
শুভেন্দু এ দিন বলেন, “বনধের দিন বিজেপি এখানে নৈরাজ্য চালিয়েছিল। যারা বাস জ্বালিয়েছিল, তারা ধরা পড়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচ জনের বাড়ি বিহারের কিষানগঞ্জ, আর চার জনের বাড়ি নদিয়ায়।” পরিবহণমন্ত্রীর প্রশ্ন, “তারা ওই দিন এখানে কী করতে এসেছিল?” বিজেপি বাইরের রাজ্য থেকে লোক ঢোকাচ্ছে এই অভিযোগ শাসক দলের নেতানেত্রীরা বেশ কয়েক মাস ধরেই করছেন। এ দিনের সভা থেকে শুভেন্দু বলেন, “আর তো পাঁচ-ছ’মাস। ইসলামপুর পার্লামেন্ট তো নেবই। সেলিম তো থার্ড হবেই। আর বিজেপি থাকবে আরও দূরে।”
তবে বিজেপি-র জেলা নেতারা তৃণমূলের এ দিনের সভা নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাচ্ছেন না। বিজেপি-র এক মুখপাত্রের কথায়, “মন্ত্রী কী বললেন তাতে ইসলামপুরের মানুষের কিছু যায় আসে না। এলাকার মানুষ জানেন, পুলিশ ওই দিন কী করেছে। আর পুলিশ যদি গুলি না-ই চালায় তাহলে কে গুলি চালিয়েছে পুলিশ তাকে খুঁজে বের করুক।”

Be the first to comment