বিধানসভায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জিকে তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : 
তাঁর বিরুদ্ধে বালি, কয়লা, চাকরি ইত্যাদি দুর্নীতির ভূরি ভূরি অভিযোগ। তাঁর পিসি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও বর্তমান সরকারের অভিযোগের অন্ত নেই। আজ বিধান সভায় তাঁদের দুজন কেই নাম না করে প্রতিষ্ঠিত চোর তকমা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সভায় পুলিশ বাজেট নিয়ে বিতর্কের জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জিকে নাম না করে নজিরবিহীন আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী।
গতকাল ২১ জুলাই এর মঞ্চে তাঁরা যা বলেছেন, তার জের টানেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্য, বেঁচে থাকতে থাকতে প্রাক্তন হয়েছেন, এবার তিনি যে প্রতিষ্ঠিত চোর, তাও প্রমাণ হবে। একুশের নির্বাচনের আগে উনি যা অত্যাচার করেছেন, ব্রিটিশরাও করেনি। তিনি আবার ফিরবেন বলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনি এখন অতীত। আর জীবনেও ফিরতে পারবেন না।” এখন চপ খেতে খেতে ফেসবুক করুন বলে কটাক্ষ করেন। বলেন, এর আগে একবার নির্বাচনে মিত্র ইন্সটিটিউশনে উনি একটা ওয়ার্ডে হেরেছিলেন, এবার ওখানের চারটি বুথেই তাঁর কাছে পরাজিত হয়েছেন। ওঁর পাশের বাড়ির লোকও ওঁকে ভোট দেয় না।
দলের চোররা ঋতব্রত শিবিরে গেছেন বলে গতকাল মমতা ব্যানার্জির মন্তব্য নিয়ে আজ ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী সমর মুখার্জি, বিপ্লব মিত্র, গোলাম রব্বানি প্রমুখের নাম করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ধিক্কারে বিঁধে বলেন, কি রুচি! কি ভাষা ওঁর! এঁরা সবাই চোর! যখন অটলজি ছিলেন, তখন উনি জননেত্রী ছিলেন। এখন আর নেই। দুটি পিলারে উনি দাঁড়িয়ে ছিলেন, পুলিশ আর প্যাঁক প্যাঁক! (আই প্যাক!) এখন আর কোনটাই নেই। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উস্কানি দিতেন বলেও অভিযোগ করেন। যে সব কথা মৌলানা, ইমামরা, আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকীও বলেন না, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তেমন সব বলতেন বলে ধিক্কার জানান।
বিধানসভায় সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জিকেও আজ তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, যিনি নির্বাচনের ফলের পর ডিজে বাজাবেন বলেছিলেন, রাজ্যের মানুষ তাঁর ডিজে বাজিয়ে দিয়েছেন৷ নাম না করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভাইপোপন্থী তৃণমূলের নাম ও নিশানও রাজ্যে থাকবে না। এটি তাঁর দায়িত্ব। অভিষেক ব্যানার্জি ২০৩১ সালে সব হিসাব বুঝে নেওয়ার যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উনি ভিতরে (জেলে?) থাকবেন না বাইরে থাকবেন তবে তো হিসাব!! তা ভবিষ্যতই বলবে!
সাংসদকে বাঘ না বিড়াল বলে তীব্র কটাক্ষে বিঁধে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যত চুরি করেছে, সব গর্ত খুঁড়ে বার করা হবে। তাঁকেও প্রতিষ্ঠিত চোর বলে বেঁধেন তিনি। হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ডায়মন্ড হারবারে ৪০% মুসলিম, এরপর যত ভোটে উনি জিতেছেন, তত ভোটেই হারবেন! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর ভাইপো গতকাল দম্ভ দেখিয়েছেন বলেও তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*