রোজদিন ডেস্ক :
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুপ্রবেশ বন্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন। আজ বিকেলে নবান্নে তিনি পরিস্কার জানিয়ে দেন, যাঁরা সিএএ-র (নাগরিকত্ব সংশোধন) আওতায় নেই তাঁদের গ্রেফতার করে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। গত বছর (১৪.০৫.২০২৫ তারিখে) এই মর্মে কেন্দ্রর নির্দেশিকা রাজ্যে পাঠানো হলেও প্রাক্তন সরকার তা কার্যকর করেনি। বিজেপি সরকার এসে তা কার্যকর করল।
আজ সকালে উত্তরবঙ্গ গেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে বিকেলেই ফিরে আসেন।
উল্লেখ্য, রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অনুপ্রবেশ নিয়ে তোপ দাগেন। পরিস্কার জানিয়ে দেন, এখানে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য কোন জায়গা নেই।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ দৃঢ়ভাবে জানান, তাঁরা বিএসএফের সঙ্গে সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি করে রাজ্য ও দেশকে সুরক্ষিত করবেন। কেন্দ্রর শরণার্থী সংক্রান্ত আইন ও কার্যকর করার কতা ঘোষণা করেন। জানান, ৭টি সম্প্রদায়ের মানুষ এই আইনের আওতায় আসেন। এই বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা দেন তিনি।

২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবধি যাঁরা এই রাজ্যে এসেছেন, তাঁদের পুলিশ কোনও হেনস্থা বা গ্রেফতার করতে পারবে না৷ কিন্তু যাঁরা সিএএ-র অন্তর্ভুক্ত নয়, তাঁরা সম্পূর্ণ অনুপ্রবেশকারী বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। পরিস্কার বলেন, তাঁদের সরাসরি রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করে বিএসএফ-কে তুলে দেবে। দেশ থেকে বার করে দেবে বলে কড়া বার্তা দেন। ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট।
সীমান্তে কাঁটাতার দিয়ে অনুপ্রবেশ বন্ধ করা হবে। ২৭ কিমি ফেন্সিং-এর জন্য আজ পাঁচটি জেলায় ৪৩ একর ও নয়টি জেলায় ৩২ একর খাস জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হল। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ডিজি বিএসএফ প্রবীণ কুমারের হাতে এই জমি তুলে দেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশের বর্ডার অঞ্চল যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখান দিয়ে দেশেবিরোধী কাজ, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, নারী ও শিশু পাচার, লাভ জিহাদ, চোরাচালান, বিভিন্ন অসামাজিক কাজ চলত। এর বড় অংশ বাংলাদেশ থেকে আসা অপরাধীরাই করতেন। সীমান্ত সংলগ্ন সব থানায় দেশের স্বার্থে, রাজ্যের স্বার্থে এই আইন কার্যকর করা হোল। প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ বর্ডার। তার মধ্যে ২২০০ কিলোমিটার হল পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বর্ডার এলাকা। এই ২২০০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৬০০ কিমি কাঁটাতার-এর বেড়া রয়েছে। ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তে আমরা ফেন্সিং করতে পারিনি। আজকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন এই জন্য যে, বিএসএফ-এর ডিজি-র উপস্থিতিতে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক রাজ্য সরকার তার যাত্রা শুরু করল। আগের রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার ফলে আমাদের প্রিয় রাজ্য সমস্যার মধ্যে পড়েছিল। রাজ্য সরকার মনে করলে জমি দিতে পারতো। কিন্তু পূর্বতন সরকারের ভ্রান্ত নীতি এবং প্রচণ্ড তোষণ এই মহান কাজে বাধা দেয়।

প্রথমে রাজনাথ সিং, তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করে চিঠি লিখেছিলেন, তারপর স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ নিজে উপস্থিত থেকে থেকে তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন জমি হস্তান্তর করতে। ৫-৬টা মিটিং হয়েছে, যার নিট ফল শূন্য। তাই আজ এই মহতি পদক্ষেপ। আগামী কিছুদিনের ভেতর যতটা সম্ভব সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে। ডিজি বিএসএফ পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের অফিসার, তিনি পশ্চিমবঙ্গকে ভালোবাসেন, রাষ্ট্রবাদী, দেশপ্রেমিক। আজ আমরা সবাই এই সন্ধিক্ষণের সাক্ষী থাকলাম।
সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে কো-অর্ডিনেশন মিটিং দীর্ঘ সময় ধরে হয় না। ৯.৫.২০২৬-এ নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৮.০৫.২০২৬ ও ১৯.০৫.২০২৬ সীমান্তবর্তী জেলাগুলির সঙ্গে কো-অর্ডিনেশন মিটিং হয়েছে। এখন থেকে তা প্রতিনিয়ত হবে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে থানা স্তরে বিএসএফ-এর সুদৃঢ় সম্পর্ক হবে।
গত বছর কেন্দ্রীয় সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেয়, ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বা নিপীড়নের ভয়ে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবধি পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান থেকে ভারতে চলে আসবেন। এমন হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি, এমন কি খ্রিস্টানদেরও শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া হবে। ভারত সরকার তাঁদের তাড়িয়ে দেবে না।

ডিজি বিএসএফ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাঁটাতারের বেড়ার জন্য জমি চেয়েছিলাম। আজ যে জমি হস্তান্তরিত হচ্ছে তা আমাদের পরিকাঠামো তৈরিতে এবং বিভিন্ন পরিকল্পনা উন্নয়নে কাজে লাগবে। তিনি বলেন জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে এই দিন অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য দিন। ডিজি বিএসএফ আরো বলেন এইভাবে আমরা নির্দিষ্ট কো-অর্ডিনেশন- এর মাধ্যমে স্মাগলারদের চিহ্নিত করে ধরবো। আমার পুরো বিশ্বাস বিএসএফ তার পরিকাঠামো উন্নয়ন হলে আমাদের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূর্ণ হবে। এর ফলাফল ভারত সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার পাবে।
অর্থাৎ, এই ধরনের মানুষ যাঁরা মূলত পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরায় চলে এসেছেন, তাঁরা সকলেই শরণার্থীর মর্যাদা পাবেন৷ ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে কেন্দ্র যে কঠোর, এই আইনে তা পরিস্কার।
স্বরাষ্ট্র সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ বলেন ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। আজকের এই হস্তান্তর রাজ্য ও দেশের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করবে।

Be the first to comment