রোজদিন ডেস্ক : শিক্ষক সমাজই জাতির মেরুদণ্ড। তাঁদের হাত ধরেই গড়ে ওঠে আগামী প্রজন্ম। এই বার্তাকে সামনে রেখেই শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করল ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রফেসর, টিচার অ্যান্ড এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন। বিধান ভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, প্রাক্তন সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক রূপক সাহা এবং প্রবীণ সাংবাদিক স্নেহাশিস সুর-সহ বিশিষ্টজনেরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য রাখেন অভিজ্ঞ ও খ্যাতনামা সাংবাদিক স্নেহাশিস সুর। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি শিক্ষক হিসেবেও পড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন শিক্ষককে প্রতিদিন হাজার হাজার চোখের সামনে পরীক্ষা দিতে হয়। একইসঙ্গে বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্নেহাশিস সুরের কথায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন তথ্য ছাত্রছাত্রীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে শুধুমাত্র তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকা সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য বা দিশা না পেলে তাঁদের প্রতি আগ্রহ হারাতে পারে। তাই তথ্যকে জ্ঞানে রূপান্তরিত করা এবং সেই জ্ঞানকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর পথ দেখানোই বর্তমান সময়ে শিক্ষকদের অন্যতম প্রধান কাজ বলে জানান তিনি।

নিজের ছোটবেলার শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণা করেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক রূপক সাহা। অঙ্কের প্রতি তাঁর ভীতি কীভাবে একজন শিক্ষক দূর করেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি বিদেশে বিভিন্ন দেশে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি যে শ্রদ্ধা ও সম্মান দেখেছেন, তার সঙ্গে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। ধর্মতলায় জল ঝড়ে বসে থাকা শিক্ষক শিক্ষিকাদের কথা তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
অন্যদিকে, মুক্ত চিন্তার পরিসর ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রাক্তন সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য। শিক্ষাক্ষেত্রে স্বাধীন চিন্তা ও মতপ্রকাশের গুরুত্বের কথা বলতে গিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক হলেন মা-বাবা। তাঁদের কাছ থেকেই একজন মানুষের প্রাথমিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের ভিত তৈরি হয়। পাশাপাশি সমাজ ও জাতি গঠনে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শিক্ষকদের সম্মান, তাঁদের দায়িত্ব এবং বর্তমান সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় এদিনের অনুষ্ঠান।

Be the first to comment