রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- গতবছর কলকাতা নাইট রাইডার্স আইপিএল খেতাব জেতায় নিয়ম মেনে চলতি বছর একটি কোয়ালিফায়ার এবং ফাইনাল ম্যাচ আয়োজনের সৌভাগ্য হয়েছিল ইডেন গার্ডেন্সের। কিন্তু আবহাওয়াজনিত কারণে পরিবর্তিত সূচিতে আইপিএল ফাইনালের ভেন্যু কলকাতা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আমেদাবাদে। সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারণ নিয়ে যদি-কিন্তুর অবকাশ তো রয়েইছে। এরমধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, আবহাওয়া অজুহাত মাত্র। আসলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কলকাতা থেকে সরানো হয়েছে আইপিএল ফাইনাল। পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক করে এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে বিঁধলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। জানালেন পুরো বিষয়টা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
একটি কোয়ালিফায়ার এবং আইপিএল ফাইনাল কলকাতা থেকে আমেদাবাদে সরে যাওয়ায় বাংলার ক্রীড়াপ্রেমীদের ক্ষোভের স্বর নিচু তারে বইছে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে সেটারই সোচ্চার রূপ দিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী। নগরপাল মনোজ বর্মা এবং যুবকল্যাণ ও ক্রীড়াদফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রাজেশ কুমার সিনহাকে পাশে নিয়ে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী জানালেন, বাংলা সর্বক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার শিকার। একশো দিনের কাজ থেকে আবাস যোজনা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চনার মোট পরিমাণ এক লক্ষ সাতাশি হাজার কোটি টাকা। এবার বঞ্চনা ক্রিকেট মাঠেও। হাওয়া অফিসের তথ্যপ্রমাণ পেশ করে এদিন অরূপ বিশ্বাস বলেন, “আলিপুর আবহাওয়া দফতর থেকে জানানো হয়েছে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের পূর্বাভাস এতদিন আগে দেওয়া সম্ভব নয়। তাহলে বোর্ড কোন আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে সূচি বদল করল, বাংলার মানুষ জানতে চায়। আর পূর্বাভাস যদি আগে থেকেই জানতে পারা যেত তাহলে আইপিএলের কয়েকটি ম্যাচ কেন বৃষ্টির কারণে বাতিল হল।”
রাজ্যের মন্ত্রী আরও বলেন, “জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার নিরিখে ইডেনের থেকে ভালো কোনও স্টেডিয়াম ভারতবর্ষে আর নেই। দু’ঘণ্টাও যদি মুষলধারে বৃষ্টি হয় তাহলে ইডেন থেকে জল বেরিয়ে যেতে মাত্র আধঘণ্টা সময় লাগে।” সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী বলেন, “ইডেনে সাতটি ম্যাচে গড়ে ৬০ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নির্বিঘ্নে ফিরেছেন। কোনও অশান্তি হয়নি। সমালোচনার জন্য সমালোচনা এবং তাতে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ হয়েছে সুকান্ত মজুমদারের পোস্টে, যা ভিত্তিহীন।”
আমেদাবাদে গত চারবছরে তিনবার ফাইনাল আয়োজিত হওয়ার তথ্যও এদিন তুলে ধরেন অরূপ বিশ্বাস। আর এই ছবি অন্য বার্তা দেয় বলেই কটাক্ষ রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীর। সিএবি আইপিএল ফাইনালের সূচি বদলে প্রতিবাদের রাস্তায় নেই কেন, তা নিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী অবশ্য মন্তব্য করতে রাজি নন। তবে সার্বিকভাবে বঞ্চনার বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ যে প্রতিবাদ করবেই, সে ব্যাপারে নিশ্চিত করছেন তিনি।
২৯ মে প্রথম কোয়ালিফায়ার ও ৩০ মে এলিমিনেটর হবে পাঞ্জাবের মুলানপুরে। ১ জুনের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচও হবে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। অর্থাৎ প্লে অফেরও কোনও ম্যাচ পায়নি ইডেন। এর সঙ্গে ২৩ মে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ম্যাচটিরও ভেন্যু বদলাচ্ছে। ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল বেঙ্গালুরুতেই। কিন্তু পরিবর্তিত সূচিতে তা হবে লখনউয়ে।

Be the first to comment