রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- গভীর রাতে সফল এয়ার স্ট্রাইক। পহেলগাঁও হামলার প্রত্যাঘাত। মঙ্গলবার রাতে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটিতে প্রত্যাঘাত হেনেছে ভারত। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে একের পর এক পাক জঙ্গিঘাঁটি। ভারতীয় সেনার এই সাফল্যে গর্বিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। হামলার পরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার বৈঠক ডাকেন তিনি। বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা সকলের জন্য গর্বের মুহূর্ত।’ পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘আমাদের সেনা আধিকারিকরা সামান্য সময়ের মধ্যে নিখুঁত অপারেশন চালিয়েছেন। এই অপারেশন সফলভাবে শেষ হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘গোটা দেশ আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। আমরা আমাদের সেনার জন্য গর্বিত।’
অন্যদিকে, এই অভিযানের পর সাংবাদিক বৈঠকে রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, পাকিস্তানের কোনও সাধারণ নাগরিকের এতটুকুও ক্ষতি হয়নি। সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সংবেদনশীলতার জন্য সেনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এই সংবেদনশীলতা ভারতই দেখাতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। রাজনাথ বলেন ‘সেনাবাহিনী শুধু তাদেরই মেরেছে, যারা আমাদের নিরপরাধ মানুষকে মেরেছে।” অনেক ভেবেচিন্তে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন ভ্যালিতে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৮ জন পর্যটক। বেছে বেছে হিন্দুদের মারা হয়েছিল। তার পর থেকেই প্রতিশোধের দাবিতে উত্তাল গোটা দেশ। এই হামলার পেছনে পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত। এরপর একের পর এক পদক্ষেপ করা হয় পাকিস্তানকে কোনঠাসা করতে। বাতিল করা হয় সিন্ধু জলচুক্তি, বন্ধ করা হয় ওয়াঘা আটারি সীমান্ত, পাক বিমানের জন্য ভারতের আকাশসীমাও বন্ধ করা হয়। কূটনৈতিক পদক্ষেপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও পাকিস্তানকে চাপে ফেলার উদ্যোগ নেয় ভারত। সব শেষে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের উচিত জবাব দিতে বারবার বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বরা। এরপর মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটিতে হামলা চালায় ভারত।

Be the first to comment