রোজদিন ডেস্ক : এতদিন যা ছিল অন্যের মুখে, বা জল্পনায়, এবার সরাসরিই তা বললেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত-পাকিস্তান-সহ একাধিক দেশে যুদ্ধ থামাবার দাবি করে পরিস্কারই জানালেন, তাঁকে নোবেল (Nobel) পুরস্কার দেওয়া উচিত।
এর আগে একদা তাঁর ঘনিষ্ঠ এলন মাস্কও বলেছিলেন, ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। মাস্কের সঙ্গে ট্রাম্পের সুসম্পর্কে এখন ইতি পড়েছে, এবার নিজের মুখেই মার্কিন রাষ্ট্রপতি জানিয়ে দিলেন, তাঁকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত।
কোন প্রেক্ষিতে তাঁর এই দাবি, তাও ব্যাখ্যা করেছেন বিশ্বের সব থেকে শক্তিধর দেশের প্রধান। জানিয়েছেন, তাঁরা এমন কিছু করেছেন, যার জন্য সর্বস্তরে সন্মানিত হয়েছেন। আগে এমন সম্মান তাঁরা পাননি। কি করেছেন তার ফিরিস্তি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাঁরা যুদ্ধ বন্ধ করেছেন ও শান্তি চুক্তি করেছেন। ভারত ও পাকিস্তান কে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চাপে রেখে দুই দেশের সংঘর্ষ বিরতি করেছেন।
উল্লেখ্য, পহেলগাঁও এ ভয়ংকর নৃশংস জঙ্গি হামলার পর অপারেশন সিঁদুর অভিযান করে ভারত। পড়শি দেশের ভিতরে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে বলে দাবি জানায়। দেশ যখন এই নিয়ে উত্তেজনায় ফুটছে, আচমকাই সেই অভিযান স্থগিত হয়ে যায়।
গত ১০ মে উভয় দেশ সরকারি ভাবে যুদ্ধ বিরতি ঘোষণার আগেই সমাজ মাধ্যমে ট্রাম্প জানিয়ে দেন, তাঁর হুশিয়ারি তেই দুই দেশ যুদ্ধ বিরতি করেছে। যা নিয়ে তোলপাড় ওঠে এই দেশ-সহ সারা বিশ্বে। ভারত সরকার অবশ্য ট্রাম্পের এই ” মহিমা “(!) স্বীকার করেনি। বিরোধীদের চাপে বিদেশ মন্ত্রী জয়শংকর এই নিয়ে বিবৃতিও দেন। কিন্তু ট্রাম্প যে নিজের বক্তব্যে অনড়, ফের তার প্রমাণ মিললো। তবে এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দুই দেশের নেতার প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা আছে, দুই দেশ ই তাঁদের সংগে বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী। সংঘর্ষ বিরতি না করলে কোন চুক্তি হবে না বলে তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত,ভারতের সংগে আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি এখনও ফলপ্রসূ হয়নি। পরন্তু, আমেরিকার শুল্ক নিয়ে রীতিমত চাপে আছে ভারত।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের আর ও দাবি, ভারত পাকিস্তান ছাড়া থাইল্যান্ড কম্বোডিয়া, আর্মেনিয়া আজারবাইজান, সার্বিয়া, কংগো, ইরান, মিশর, ইথিওপিয়া ইত্যাদি দেশের যুদ্ধ ও তাঁরাই থামিয়েছেন।
যদিও রাশিয়া ইউক্রেন, ইস্রায়েল প্যালেস্টাইন নিয়ে নীরব তিনি।
প্রসঙ্গত, রুজভেল্ট, উইলসন, জিমি কার্টার এবং ওবামা নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন।
এবার ট্রাম্পের নজরও সেই দিকেই।

Be the first to comment