রাশিয়ার বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন হামলা, ৪০টি সামরিক বিমান ধ্বংস করল ইউক্রেন

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:– যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য একদিন পর ইস্তানবুলে মুখোমুখি বসতে চলেছে ইউক্রেন ও রাশিয়া। এই আবহে ৩ বছর ধরে চলতে থাকা যুদ্ধের ঝাঁঝ বাড়িয়ে রাশিয়ার বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন হামলা চালাল ইউক্রেন।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষেবার এক সূত্রের দাবি, দুই দেশের সীমান্ত থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে পূর্ব সাইবেরিয়ান অঞ্চলে বেলায়া সামরিক বিমান ঘাঁটিতে রবিবার হামলা চালিয়েছে কিভ। তাঁর দাবি, দূর থেকে করা এই হামলায় রাশিয়ার ৪০টি বিমান ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ড্রোন হামলার পর সেখানে আগুন লেগে যায় বলেও জানান তিনি। সংবাদসংস্থা এএফপি-র খবর অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর ধরে এই হামলার ছক কষছিল ইউক্রেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি দেখছিলেন।
অন্যদিকে, একই দিনে ইউক্রেনের এক সেনা প্রশিক্ষণ অঞ্চলে হামলা চালায় রাশিয়া। হামলায় ১২ জন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। গুরুতর আহত একাধিক। যদিও, কোন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হামলাটি হয়েছে, সেই প্রসঙ্গে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি কিভের তরফে। তবে, হামলার সময় সেনা জওয়ানরা কোনও জনসমাবেশে ছিলেন না। নিজেদের আশ্রয় কেন্দ্রে ছিলেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেন। ঘটনা প্রসঙ্গে সেনার তরফে একটি বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, “সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হামলায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬০ জনেরও বেশি আহত। এই হামলায় শীর্ষ কর্তাদের নিষ্ক্রিয়তা প্রমাণিত হলে, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।”
উল্লেখ্য, এর আগেও সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গত মাসে রুশ হামলায় ৬ জন প্রশিক্ষণরত ইউক্রেনীয় সেনার মৃত্যু হয়। ঘটনায় ইউক্রেন সরকারের নিন্দায় সরব হন বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, সেনা জওয়ানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ত্রুটি রয়েছে। সেই নিয়ে তদন্ত করুক জেলেনস্কি সরকার।
এই আবহে ইউক্রেনের উত্তর সুমি অঞ্চলের একটি গ্রাম দখল করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। কিভের ধারণা, স্থলপথে যুদ্ধের ঝাঁঝ বাড়াতে মস্কোর এই পদক্ষেপ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দাবি, বিগত কয়েক সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট এলাকার বেশকয়েকটি ঘাঁটি দখল করেছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া। সেই সঙ্গে ৫০ হাজারেরও বেশি রুশ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠায় প্রায় ২০০ জনেরও বেশি গ্রামবাসীকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
যুদ্ধের এই আবহে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রবিবার সংবাদমাধ্যমকে জানান, সোমবার ইস্তানবুলে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে চলেছেন শীর্ষ আধিকারিকরা। তাঁদের নেতৃত্ব দেবেন ইউক্রেন সরকারের মন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*