আদিনা মসজিদ দর্শনে ইউসুফ পাঠান, তির বিজেপির

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : তিনি মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের সাংসদ। এই কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের সাংসদ কংগ্রেসের অধীর চৌধুরীকে পরাজিত করে সংবাদের শিরোনামে এসেছিলেন। স্থানীয় কোন সমস্যায় তাঁর দেখা মেলে না বলে প্রায়শই অভিযোগ করেন বিরোধীরা। এবার মালদার ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদ দর্শনে গিয়ে বিতর্কে জড়ালেন এই নামী ক্রিকেটার তথা তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা সাংসদ ইউসুফ পাঠান।

আদিনা মসজিদ গিয়ে সমাজমাধ্যমে এর  ইতিহাস ও গুণগান বর্ণনা করে সঙ্গে নিজের বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেন ইউসুফ পাঠান। তা নিয়ে রে রে করে আক্রমণের তির ধেয়ে আসে গেরুয়া শিবির থেকে। অনেক নেটিজেনও কটাক্ষ ছোঁড়েন।

কেন এই আক্রমণ, কটাক্ষের নিশানা তিনি? আসলে আদিনা মসজিদ নাকি আদিনাথ মন্দির? দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ে বিতর্ক চলছে। মালদার এই দৃশ্যনন্দন  স্থাপত্য  কীর্তিটি চতুর্দশ শতাব্দীতে সুলতান সিকন্দর শাহ-র আমলে তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন ভারতের সব থেকে বড় মসজিদ এই আদিনা মসজিদ।

ইউসুফ পাঠান সমাজমাধ্যমে তাঁর পোস্টে এই সব কথাই বলেছেন। কিন্তু গেরুয়া শিবির তীব্র কটাক্ষে বিঁধে তাঁর উদ্দেশ্যে বলেন, এই কথা সংশোধন করে তিনি একে আদিনাথ মন্দির বলুন!!

বিজেপির রাজ্য শাখা ছাড়া একই কথা তাঁর দিকে ছুঁড়েছেন বেশ কয়েকজন নেটিজেনও।

সূত্রের খবর, মসজিদের স্থাপত্যে বেশ কিছু হিন্দু ও বৌদ্ধ  শৈলীর মিল থাকায় এই বিতর্ক। ২০২২ সালে রাজ্য বিজেপির তৎকালীন সহ-সভাপতি রথীন্দ্র বসু প্রথম এই প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেছিলেন,  আদিনা মসজিদের তলায় কি ঘুমিয়ে আছে সনাতনি ইতিহাস?

রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের উত্থানের পর এই নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে কেন্দ্র রাজ্য উভয় পক্ষই। ২০২৪ সালে  হিন্দু পূজারি হিরণ্ময় গোস্বামী কয়েকজনকে নিয়ে ওখানে পুজোও দেন। তাঁদের দাবি, ওখানে আদিনাথ অর্থাৎ শিব মন্দির ছিল। বিষয়টি নিয়ে আসরে নামেন বারানসি জ্ঞান বাপি চত্বরে থাকা মসজিদ নিয়ে মামলাকারী হরি শংকর জৈনও। যদিও এই সব চর্চা বেশি এগোতে পারেনি।

ভারতের আর্কিওলজিকাল সংস্থা (এএসআই) এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছে। তাদের বক্তব্য, এই আদিনা মসজিদ এক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্মৃতি স্তম্ভ।  ইউসুফ পাঠান ওখানে গিয়ে ফের বিতর্ক উসকে দিয়েছেন বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*