রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- ভুস্বর্গে ভয়ংকর আঘাত। রক্তাক্ত কাশ্মীর।পাহেলগাম – বৈসরণ ভ্যালিতে পর্যটকদের ওপর হত্যালীলার নিন্দায় সারাদেশ তথা সারা বিশ্ব।২২ এপ্রিল কাশ্মীরে পর্যটক নিধনের তীব্র নিন্দা করে দেশ বাঁচাও গণ মঞ্চ। কিন্তু এই নির্মম হত্যালীলাকে কেন্দ্র করে সমাজকে ২ ভাগে ভাগ করার বিপক্ষে মঞ্চ।তাই নজরুল ইসলামকে উদ্ধৃত করে তাদের প্রশ্ন ” হিন্দু না ওরা মুসলিম ওই জিজ্ঞাসে কোন জন,বলো কান্ডারী ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মার” । এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি সম্প্রীতি সম্মেলন আয়োজন করে মঞ্চ। মৌলালি যুব কেন্দ্রে সোমবার ২৮ এপ্রিল বিকেলে এই সম্মেলন হয়। উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু,ইতিহাসবিদ সুরঞ্জন দাস,অধ্যাপক সৈয়দ তানভীর নাসরীন, সমীর পুততুন্ড,প্রদীপ্ত গুহঠাকুরতা, অধ্যাপক শামীম আহমেদ,আধ্যাপক ফাহমীনা কাজমি,সঙ্গীত শিল্পী সৈকত মিত্র,সাংবাদিক রান্তিদেব সেনগুপ্ত, সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্য্য, বর্ণালী মুখার্জী, সুশান রায়, প্রমুখ। এদিন এঁরা সম্প্রীতি সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। এদিনের সন্মেলনে মৌললি যুব কেন্দ্রে হল ছিল কানায় কানায় ভর্তি। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন জেলা থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। এছাড়া, জাতীয় বাংলা সন্মেলনের রেল হকার সংগঠনের অনেক সদস্য রাও ছিলেন।এই সম্মেলনে গণ মঞ্চ বার্তা পত্রিকার নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা উদ্ধোধন হয়। পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর তরফে বক্তব্য রাখেন বাসুদেব ঘটক।পত্রিকা শুরু হয় প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের কবিতা দিয়ে।পূর্ণেন্দু বসুর যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ভারত সরকার ও রাজ্য সরকারের সম্পর্ক শীর্ষক লেখাটি বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে খুবই উল্লেখযোগ্য। এছাড়া শামীম আহমেদের বাংলার অক্সফোর্ড নবদ্বীপ, সৈকত মিত্রের ভারতীয় সঙ্গীতে বাঙালির অবদান, সুমন ভট্টাচার্যের বাঙালির খাওয়াদাওয়া, বাসুদেব ঘটকের বাঙালির বিজ্ঞান চর্চা, সুশান রায়ের বাংলার লৌকিক দেবদেবী ও বাংলার মৌলিক ধর্মচর্চা এইসব লেখা গুলি বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে। এছাড়াও রন্তিদেব সেনগুপ্তর শ্রীচৈতন্য, রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ,লালন – বাঙালির উদার ধর্ম ভাবনা, এবং সৈয়দ তানভির নাসরিনের বাঙালি মুসলমানের আত্ম পরিচয়ের সংকট লেখাগুলিও খুবই মনোগ্রাহী।

Be the first to comment