রোজদিন ডেস্ক : ভোটের কাজে অধ্যাপকরা কেন পোলিং অফিসার? এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে প্রশ্নের মুখে পড়ল নির্বাচন কমিশন। ওই বিজ্ঞপ্তি দেখে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কমিশনকে বলেন, আপনাদের বিজ্ঞপ্তি যা বলছে তাতে আপনারা জজদেরকেও পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করতে চান। আপনারা যখন যেমন খুশি বিজ্ঞপ্তি দেবেন, এতো হতে পারে না। আমি রসিকতা করছি না। আপনাদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আপনারা তো জজেদেরও নিয়োগের ব্যবস্থা রেখেছেন। কোনও সমস্যা নেই, আমাদের নিয়োগ করুন, আমরা পোলিং অফিসার হিসেবে বুথে ডিউটি করবো। আপনারা যখন খুশি নিয়ম করছেন। আপনাদের নথিই দু’রকম কথা বলছে। কমিশনের আইনজীবী বলেন, সামনেই ভোট, এখন নতুন নিয়োগ করে ট্রেনিং দিয়ে ভোট করানো সম্ভব নয়। বিচারপতি বলেন, এটা কোনও যুক্তি হতে পারে না। আপনাদেরই নিজেদের কাজের স্বপক্ষে যথাযোগ্য যুক্তি দিতে হবে। তারা যদি ভোটের পরে মামলা করে তখন কোর্ট কি করবে? ফলে এই কাজের যুক্তি কমিশনকেই দিতে হবে। এইসব দেখে কোর্ট চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে না। কমিশনের বক্তব্য, এই বিজ্ঞপ্তিতে হস্তক্ষেপ করলে ২৩ টি জেলাতেই তাদের নতুন করে নিয়োগ করতে হবে। এসআইআরের কাজে জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করা হয়েছে। এই অবস্থায় এখানে কোর্ট হস্তক্ষেপ করলে নির্বাচনটাই বন্ধ করে দিতে হবে। বিচারপতি বলেন, কিন্তু আপনারা এই অযৌক্তিক বিজ্ঞপ্তিকে মান্যতা দেওয়া সম্ভব নয়। তাহলে মামলা সুপ্রিম কোর্টে পাঠিয়ে দিচ্ছি, সেখানে গিয়ে আপনারা এই যুক্তি দিন। এরপর মামলাকারীর আইনজীবি বলেন, কমিশন রিজার্ভে থাকা অফিসারদের কাজে লাগাতে পারে। বিচারপতি কমিশনকে বলেন, আপনাদের একদিন সময় দেওয়া হল, আগামীকাল শুক্রবার বিজ্ঞপ্তির ব্যাখ্যা দেবেন আদালতে।

Be the first to comment