বাংলাদেশ আমাদের বন্ধু কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়নি, এটা শুধুমাত্র শুরু হয়েছে : এম. কে.নারায়ণন

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : এম কে নারায়ণন। দেশের প্রাক্তন ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইসর। ছিলেন বাংলার রাজ্যপালও। শুক্রবার ২৩ শে মে ২০২৫ ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ললিত গ্রেট ইস্টার্ন হোটেলে দেখা মিলল তাঁর।
গ্লোবাল অ্যান্ড রিজিওনাল জিও পলিটিক্স সিকিউরিটি এন্ড ইকোনমিক্স ইন আ ওয়ার্ল্ড অফ আনসাটিনিটি শীর্ষক একটি আলোচনা সভার প্রধান বক্তা ছিলেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতেই ভারতের মহত্ব বোঝাতে গিয়ে নবতিপর নারায়ণন বলেন আমাদের দেশ বলতে বোঝায়, বসুধৈব কুটুম্বকম অর্থাৎ দ্যা হোল ওয়ার্ল্ড ইজ আ ফ্যামিলি।
কিন্তু বর্তমানে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের অনিশ্চয়তা, তাদের অভ্যন্তরীণ অশান্তির কথাও উঠে এলো তাঁর বক্তব্যে।
বিশ্বের শৃঙ্খলা বা সামঞ্জস্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একে বিশৃংখল ব্যাধি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি সাবধান করেন অনিশ্চয়তা হলো একমাত্র তাই ধ্রুবক।
তিনি বলেন পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ সবে শুরু হয়েছে এটা শেষের থেকে অনেক দূরে। তিনি আরও বলেন, অপারেশন সিঁদুর আমরা কি করতে পারি তার একটা উদাহরণ। এটা শেষ হয়ে যায়নি ভারতের উচিত পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান আসীম মুনিরের উত্থান বিষয় সতর্ক থাকা।
পাকিস্তানি নিজেদের ভেতরেই গৃহযুদ্ধ বালুচিস্তানের সমস্যা বাড়ছে বলেন এম কে নারায়নন।
পাহেলগাঁও হত্যার এক সপ্তাহ আগের এক বক্তব্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির বলেছিলেন, হিন্দুস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের ধর্ম আলাদা আচার অনুষ্ঠান আলাদা খাওয়া দাওয়া আলাদা ঐতিহ্য সবকিছুই আলাদা।
স্পষ্টতই ভারতের প্রতি বিদ্বেষ ও হুমকি এই বক্তব্য থেকে পাওয়া যায়।

নারায়নান বলেন পাকিস্তান আমাদের অনবদ্য শত্রু। এই ভূখণ্ডে চিরশান্তি সম্ভব নয়। আর্মি চিফ মুনির এমন ভাবে কথা বলছেন যেন দেশের ডি ফ্যাক্টো নেতা বা প্রধান তিনি, তার মতামত প্রকাশের ভঙ্গি এমনই।
তাই আমাদের নিরাপত্তা রক্ষীদের বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোনমতেই কম বা নিচু করলে হবে না।
তিনি মনে করিয়ে দেন ভারতের নীতিগত অবস্থান হল পারমানবিক অস্ত্র ভান্ডারের নো ফার্স্ট ইউজ অর্থাৎ প্রথম ব্যবহার না করা।
পাকিস্তানে বহু দশক ধরে দেশের অভ্যন্তরের সামরিক প্রভাব দেশের সর্বনাশ করছে। রাজনৈতিক শক্তিকে যখন মিলিটারিরা দখল করে নেয় তখন তার প্রভাব খারাপ হয়। পাকিস্তানে আবার সামরিক শাসনের মুখ ভূত মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলেমিশে আছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে কোন পারমাণবিক সংঘাত অত্যন্ত বিপর্যয়কর এবং তা বিধ্বংসী শক্তিকে অতিক্রম করে সীমান্ত ছাড়িয়ে আমাদের বহু প্রজন্মকে আঘাত করতে পারে।
চীন সম্পর্কে নারায়নানান বলেন আমরা দুই দেশ দুটি বৃহৎ সভ্যতা। আমরা চীনের সাথে যুদ্ধ করতে পারবো না ।আমি বিশ্বাস করি চিন ও যুদ্ধ চায় না। তার চেয়ে বেশি চিনের আগ্রহ বিশ্বের বৃহৎ শক্তি বা সভ্যতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে নারায়নান্দ বলেন, শেখ হাসিনাকে জোর করে বাংলাদেশ থেকে ক্ষমতাচ্যুত করা, ভারতের পক্ষে একটা সেটব্যাক। তিনি বলেন বাংলাদেশ ভারতের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ ভারতেরই ক্ষুদ্র সংস্করণ। দুই দেশের বিশেষ করে দুই বাংলার বহু বিষয় মিল। তাই ভারতের অর্থাৎ আমাদের বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে। ওপার বাংলার বহু প্রাণবন্ত ইতিহাস আছে তা এপার বাংলা কেউ ছাপিয়ে যায়।। সেই সব মানুষের কন্ঠের ভাষা স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। তিনি হাসিনার বাংলাদেশ ছেড়ে পালানো এবং ভারতের নির্বাসনে থাকার কথা বলেন।
এক প্রশ্নের উত্তরে নারায়ন বলেন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব থাকা উচিত তিনি তার বক্তৃতাতেও সে কথা বলেন বলেন ভারত ও বাংলাদেশ অত্যন্ত ভালো বন্ধু। এবং এই বন্ধুত্ব রক্ষা করার জন্য দুই দেশের মধ্যেই দৃঢ় সংকল্প বা চেষ্টা থাকা উচিত।
বাংলাদেশে কি হচ্ছে তা তিনি জানেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইসরাইল কে বন্ধু দেশ বললেও গাজায় তাদের কর্মকাণ্ড কে সমালোচনা করেন তিনি। এবং তা বন্ধ হওয়া উচিত বলে বলেন।
আমেরিকা আর গণতন্ত্রের স্তম্ভ নয়, ইউরোপ নিজের দুঃখে জর্জরিত। এই ভাবেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনিশ্চয়তাকে তুলে ধরেন নারায়ন।
ঈশা উপনিষদের এক উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করেন কংগ্রেসের মনিষ তিওয়ারি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মনীশ বলেন ৭৫ বছর ধরে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ চালাচ্ছে আমাদের ওপর। তিনি এর শেষ হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তার বাবা ভি এন তিওয়ারিও ১৯৮৪ সালে খালিস্থানি জঙ্গিদের হাতে নিহত হন। তাই পাকিস্তানি সন্ত্রাস বা যে কোন ধরনের সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে দেশের পাশে দাঁড়ানো এবং কোনরকম বিতর্কে জড়িয়ে না পড়ার কথা বলেন তিনি।
এদিনের অনুষ্ঠানে এই দুই ব্যক্তি ছাড়াও অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রাক্তন চিফ অফ এয়ার স্টাফ ,এয়ার ফোর্স অফ ইন্ডিয়া অরূপ রাহা, ভারত থেকে চীনে যাওয়া রাষ্ট্রদূত অশোক কান্থা, ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্সের ডিরেক্টর জেনারেল রাজীব সিং , প্রাক্তন সাংসদ ডঃ স্বপন দাশগুপ্ত প্রমূখ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*