রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের এক বছর আগেই ভোটের দামামা বাজিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুঝিয়ে দিলেন, ৫ ইস্যুকে হাতিয়ার করতে চলেছে বঙ্গ বিজেপি। রীতিমতো বাংলায় ভোটের স্লোগান বেঁধে দিলেন তিনি। পালটা দিয়ে মণিপুর থেকে নিট দুর্নীতি, হাথরস থেকে বাংলার বকেয়ার কথা তুলে আনল তৃণমূল।
বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে রাজ্যের জন্য ৫ ‘সংকট’কে চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, “এভাবে সরকার চলবে?” প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “বাংলাকে ঘিরে রেখেছে অনেক সমস্যা। এক, সমাজের হিংসা ও অরাজকতা। দুই, মা-বোনের নিরাপত্তাহীনতা-তাঁদের উপর হতে থাকা জঘন্য অপরাধ। তিন, বাড়তে থাকে বেকারত্ব। চতুর্থ, মারাত্মক দুর্নীতি, প্রশাসনের উপর মানুষেক বিশ্বাস কমছে। পঞ্চম, গরিবের অধিকার কেড়ে নেওয়া শাসক স্বার্থান্বেষী রাজনীতি।” এরপরেই তাঁর প্রশ্ন, “এভাবে সরকার চলবে?” পাশাপাশি ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের সুরও বেঁধে দিলেন তিনি। নয়া স্লোগান দিয়ে বললেন, “বাংলার মাটির চিৎকার, আর লাগবে না নির্মম সরকার।”
পালটা দিয়ে বিজেপির আমলে গোটা দেশের ৫ সংকটের কথা শোনাল তৃণমূল। এক্স হ্যান্ডেলে তারা লিখেছে, ‘মোদিজি পাঁচ সংকটের তালিকা দিয়েছেন। চলুন, এগুলো নিয়েও কথা বলা যাক…।’ এরপরই একে একে মণিপুর, নিট দুর্নীতি, হাথরসের মতো ইস্যুর কথা তুলে ধরে তারা। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মোদির খোঁচার পালটা তৃণমূলের দাবি, ‘দু’বছর ধরে মণিপুর জ্বলছে। আগে নিজের ভুল শোধরান।’ মহিলা নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূলের হাতিয়ার উত্তরপ্রদেশের হাথরাস-উন্নাওয়ের ধর্ষণকাণ্ড। সঙ্গে খোঁচা, ‘মোদি সরকারের রেকর্ড লজ্জা দেয়।’ যুব সমাজের হতাশা নিয়ে তৃণমূলের পালটা কেন্দ্রের অধীনে থাকা নিটে দুর্নীতি, দেশের ৪৫ শতাংশ বেকারত্ব। মোদি প্রশাসনকে ধুয়ে দিয়ে তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্ধেক মন্ত্রী তো জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তৃণমূল সরকারে স্বার্থপর বলে খোঁচা দিয়েছেন মোদি। জবাবে তৃণমূলের দাবি, ‘মোদি সরকারের প্রতিহিংসার রাজনীতির জেরে বাংলা আবাস যোজনা ও ১০০ দিনের কাজে বকেয়া পায়নি।’

Be the first to comment