গত দু’দিন ধরে গুরুতর অসুস্থ থাকার পরে ইস্টার্ন বাইপাসের একটি হাসপাতালে শুক্রবার সকালে মারা গেলেন ২০১৬ এসএসসি তালিকাভূক্ত যোগ্য শিক্ষক সুবল সোরেন (৩৫)। তাঁর বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায়।
সুবলের দাদা গোপাল সোরেন সংবাদমাধ্যমে জানান, গত সোমবার সকালে তাঁর ভাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ডেবরাতেই থাকতেন সুবল। তাঁদের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুর ব্লকের সরকি গ্রামে। ৩১ ডিসেম্বরের পরে চাকরি চলে গেলে কী ভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে তিনি দুঃশ্চিন্তা করতেন ভাই, দাবি গোপালের। আর দুঃশ্চিন্তা থেকেই ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন সুবল বলে দাবি তাঁর। সুবলের বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী এবং দুই বছরের শিশুকন্যা। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন তিনি। সুবলের স্ত্রী সন্ধ্যা সোরেন কান্না জড়ানো গলায় বলেন, ‘আমার স্বামী যোগ্য শিক্ষক। ও বার বার বলত, আর চাপ নিতে পারছে না। চাকরি যাওয়ার চাপ ও মেনে নিতে পারেনি।’
২০১৬ যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চে সক্রিয় সদস্য ছিল সুবল। ডেবরা থেকে কলকাতার এসে ধামসা মাদল বাজিয়ে প্রতিবাদে সামিল হত সে। বিকাশ ভবনের সামনে রাতের পর রাত জেগে প্রতিবাদে সামিল হয়েছিল সে। শিক্ষকরা জানাচ্ছেন সুবলের কিন্তু সে রকম কোনো অসুস্থতা ছিল না। ছিল শুধু চাকরি চলে যাওয়ার দুশ্চিন্তা।
২০১৬ যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের এক নেতা বলেন “সুবলকে এই সরকার বিচার ব্যবস্থা, রাষ্ট্র চক্রান্ত করে হত্যা করেছে। আজকের স্বাধীনতা দিবসে আমরাই সবথেকে পরাধীন। সরকার এবং বিচারব্যবস্থা যদি আমাদের নিয়ে এরকম প্রহসন করে তাহলে আমাদের মৃত্যু মিছিল হবে।”
সূত্রের খবর, সুবলের সহকর্মীরা জানিয়েছেন আদিবাসী এলাকা থেকে সুবল পড়াশোনা করে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের স্কুলের শিক্ষক হয়েছিলেন। শিক্ষক হওয়ার জন্য তার এই লড়াইটা কম ছিল না। সুবল চাকরি হারা হয়ে যাওয়ার পর তার যে এরকম পরিণতি হবে তা কেউ ভাবতে পারেনি।

Be the first to comment