দিল্লিতে মুক্ত বিদ্যালয়ে উত্তীর্ণর হার নিম্নগামী

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : দিল্লি সরকারের পক্ষে চালু করা মুক্ত বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের ৭০ শতাংশই মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। গত চার বছরে উত্তীর্ণর হার মাত্র ৩০%। যা দেখে তাজ্জব হয়ে গেছেন জনশিক্ষায়  যুক্ত শিক্ষাবিদরা।

সূত্রের খবর, নবম ও দশম শ্রেণিতে যে পড়ুয়ারা উত্তীর্ণ হতে পারবে না, তাদের জন্য দিল্লির তৎকালীন সরকার এই মুক্ত বিদ্যালয় প্রকল্প চালু করেছিল। উদ্দেশ্য, এর মাধ্যমে তারা মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হতে পারবে। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য যে সফল হয়নি এর ফলাফলে তা স্পষ্ট। রাজ্য শিক্ষা দফতর সূত্রে প্রকাশ, গত ২০২৪ সালে এই প্রকল্পের আওতায় ৭৭৯৪ জন পড়ুয়া নাম নথিভুক্ত করেন। মাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণর সংখ্যা মাত্র ২৮৪২ জন, অর্থাৎ ৩৭%।

২০১৭ সালে মুক্ত বিদ্যালয়ে ৮৫৬৩ জন নাম নথিভুক্ত করেন। পরবর্তী বছরগুলিতে এই সংখ্যা বাড়তে থাকে। সব থেকে বেশি পড়ুয়ার নাম নথিভুক্ত হয়েছিল ২০২৩ সালে, ২৯৪৬৩ জন। যদিও উত্তীর্ণর হার কোনদিনই তেমন ভাল ছিল না। ২০২৪ সালে পড়ুয়া নথিভুক্ত র সংখ্যাও একলপ্তে কমে হয় ৭৭৯৪ জন। সম্প্রতি তথ্য অধিকার আইনে প্রকাশ পায় গত চার বছরে  মাধ্যমিক উত্তীর্ণর হার  মাত্র ৩০%। বাকি ৭০ শতাংশই ফেল করেছেন।

এই প্রকল্পের আওতায় পরীক্ষার্থীদের বিষয় প্রতি ৫০০ টাকা পরীক্ষার ফি বাবদ দিতে হয়। এই ছাড়া কম্পিউটার বিজ্ঞান, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও চিত্রকলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১২০ টাকা লাগে। এই ছাড়া পাঁচটি বিষয়ের জন্য রেজিষ্ট্রেশন ফি ৫০০ টাকা, প্রতি বিষয়ের জন্য ২০০ টাকা ও ট্রান্সফার অফ ক্রেডিটের জন্য বিষয় প্রতি আলাদা ২৩০ টাকা ধার্য করেছিল দিল্লি সরকার।

এই  সব তথ্য সামনে আসায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।। পড়ুয়াদের মাধ্যমিক উত্তীর্ণ করা ও এর হার বৃদ্ধি সরকারের উদ্দেশ্য হলেও কেন তা সফল হয় নি তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

পূর্বতন আপ সরকার শিক্ষা উন্নয়ন নিয়ে অনেক বড়াই করতেন। তাঁদের আমলে সাধারণ শিক্ষার ব্যাপক উন্নয়ন ও হয়েছিল। কিন্তু এই প্রকল্পতে তারা যে ব্যর্থ , এই ফলাফলে তা স্পষ্ট।  দিল্লিতে টানা তিনবার ক্ষমতায় আসে আপ। ২০২০ সালে ৭০ আসনের মধ্যে ৬২টি আসন পেয়েছিল এই দল। তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ৫৩.৫৭%।

চলতি বছরের বিধান সভা নির্বাচনে তারা মাত্র ২২টি আসনে জয়ী হয়। ক্ষমতায় আসে বিজেপি।

নবম ও দশম শ্রেণীর অনুত্তীর্ণ পড়ুয়াদের মাধ্যমিক উত্তীর্ণ করার লক্ষ্যে  যে মুক্ত বিদ্যালয় প্রকল্প আপ সরকার নিয়েছিল, তা  এই ভাবে ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমান সরকারের আমলে তা চালু থাকবে কিনা তা নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*