টেট আতঙ্ক, ফের এক প্রাথমিক শিক্ষকের অবসাদে মৃত্যু!

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : কর্মরত শিক্ষকদের টেট পরীক্ষা কি দিতেই হবে?? এই আতঙ্কে অবসাদগ্রস্ত হয়ে ফের এক প্রাথমিক শিক্ষক হৃদরোগে অকালে প্রাণ হারালেন। রাজ্যব্যাপী উৎসবের আবহে চলতি মাসে মাত্র দু-সপ্তাহের ব্যবধানে দুই প্রাথমিক শিক্ষকের এই অকাল মৃত্যু সহকর্মী মহলে আলোড়ন তুলেছে। এই সব নিয়ে রাজ্য সরকারের ঔদাসীন্যে আরও ক্ষুব্ধ তাঁরা। বঙ্গীয়
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনন্দ হাণ্ডা জানান, গত ২০ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরির কাদিরাবাদচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক উৎপলেন্দু মন্ডল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। শীর্ষ আদালতের নন টেট শিক্ষকদের টেট দেওয়া নিয়ে নির্দেশ নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। এর পাশে রাজ্য সরকার প্রাথমিক শিক্ষকদের বায়োডাটা সংগ্রহ করায় আরও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাঁর পরিবার, শুভানুধ্যায়ীদের অভিযোগ, এই সবের জন্যই আচমকা হৃদরোগ অকালে প্রাণ কাড়ল তাঁর। তিনি কেলোমাল সরকারি শিক্ষক শিক্ষণ কলেজে নিয়মিত ডিএলএড কোর্সও করছিলেন বলে আনন্দ হাণ্ডা জানান। পুজোর আগে পরীক্ষাও দিয়েছিলেন। এই সব সত্বেও সরকারের দিক দিয়ে শীর্ষ আদালতের রায় নিয়ে কোন ব্যবস্থা না নেওয়াই তাঁর অকাল মৃত্যুর কারণ বলে অভিযোগ করেন তিনি। অবিলম্বে শীর্ষ আদালতে এই রায় নিয়ে রিভিউ পিটিশন দাখিল করা, ও শিক্ষকদের বায়ো ডাটা সংগ্রহর কাজ বন্ধ করার দাবি জানান।
গত ৭ অক্টোবর মুর্শিদাবাদে প্রাথমিক শিক্ষক গিয়াসুদ্দিন শেখ ও একইভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁর পিতাও পুত্রশোক সহ্য করতে না পেরে দুদিন পরই শেষ নিশ্বাস ফেলেন। এই সব সত্বেও রাজ্য সরকার নীরব কেন প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
আজ পূর্ব মেদিনীপুরের বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক সৌমিত্র পট্টনায়কও এক প্রতিনিধি দল অকাল প্রয়াত প্রাথমিক শিক্ষক উৎপলেন্দু মন্ডল এর বাড়ি যান। শোক সন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তাঁরা শিক্ষকের স্ত্রীকে অবিলম্বে সরকারি চাকরি ও ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*