দেশের সেবা করুন, তবে রাজ্যের কথা ভুলবেন না আমরা পরিকাঠামো তৈরি করে দেবো, দরিদ্র মানুষদের সেবা করুন : মুখ্যমন্ত্রী

Spread the love

পিয়ালী: 

অসতো মা সদগময়, তমোসো মা জ্যোতির্গময়, মৃত্যুর্মা অমৃতংগময়…শান্তি শান্তি হি…ওম শান্তি।।

বৃহদারণ্যক উপনিষদের এই সংস্কৃত শান্তি শ্লোক আজ ২৮ জুলাই মঙ্গলবার নবান্ন সভাঘরে উচ্চারিত হল দেশের তথা জাতির ভবিষ্যৎদের সামনে।

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় নিট পরীক্ষায় রাজ্যের কৃতিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সূচনা করলেন এই শান্তি স্লোক দিয়ে। যার অর্থ হল অসৎ থেকে সতের পথে নিয়ে চলো, অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে চলো এবং মৃত্যু থেকে অমৃতের পথে চলতে হবে।

সর্বভারতীয় ডাক্তারির পরীক্ষা, অর্থাৎ নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০০ জন মেধাতালিকার ভিত্তিতে আজ নবান্ন সভাঘরে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে সংবর্ধিত হলেন। প্রথম ১০ জনের হাতে ল্যাপটপ, সার্টিফিকেট, পুষ্পস্তবক সহ উপহার তুলে দিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তৃতায় প্রথমেই রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করেছেন যে ভবিষ্যতের চিকিৎসকরা তাদের স্বাগত জানিয়ে বলেন আপনাদের সাফল্যের প্রধান কারিগর আপনাদের অভিভাবক স্কুল শিক্ষক তাদের আমি অন্তরের অন্তস্থল থেকে সম্মান জানাই।

মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেন নীটের মত সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক কঠিন পরীক্ষায় শুধু উত্তীর্ণ হওয়া নয় শীর্ষে পৌঁছতে পারা আপনাদের লুক্কায়িত মানব প্রতিভার পরিচায়ক। মুখ্যমন্ত্রী বলেন আপনাদের সফলতা অভিনন্দন যোগ্য । আপনাদের সাফল্যে আমরা ধন্য, আনন্দিত। পরম করুণাময় ঈশ্বর ও মহান যুগনায়ক সন্ন্যাসী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে চরৈবেতি মন্ত্রে এগিয়ে চলুন বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এই মানবসম্পদ যাতে রাজ্যের উন্নয়নে লাগে সে ব্যাপারেও মুখ্যমন্ত্রী হবু ডাক্তারদের দিশা দেখান। তিনি বলেন, ভারতবর্ষের আপনারা সন্তান অবশ্যই ভারত মাতার সেবা করবেন কিন্তু আপনাদের মাতৃভূমি পশ্চিমবঙ্গকেও ভালবাসবেন।

এর জন্য রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে পরিকাঠামোর উন্নয়ন করে যাতে চিকিৎসকরা রাজ্যে মানুষের সেবা করতে পারেন তার প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন বর্তমান সরকার পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিবর্তনে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন স্টেট হেলথ সেন্টারগুলিকে আয়ুষ্মান মন্দিরে পরিণত করা হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে করা হবে জনমুখী । এমবিবিএস বা ডাক্তারির ক্ষেত্রে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। এস এস কে এম বা অন্যান্য মেডিকেল কলেজগুলোতে শুধু বেডের সংখ্যা বৃদ্ধি নয় পড়াশোনার ক্ষেত্রেও আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। আলিপুরদুয়ার কালিম্পং পশ্চিম বর্ধমান ও দক্ষিণ দিনাজপুরে তৈরি করা হবে মেডিকেল কলেজ। কল্যাণীর মত উত্তরবঙ্গে একটি এমস তৈরি হবে। তবে মুখ্যমন্ত্রী বারবার জোর দেন গরীব মানুষের জন্য সেবার ক্ষেত্রে। তিনি বলেন আপনারা যদি দরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করেন তাহলে আমরা ধন্য হই গর্বিত হই। পশ্চিমবাংলার সমস্ত মানুষের শুভাশিস আপনাদের ওপর বর্ষিত হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় নিজেও বড় ডাক্তার। তিনি সহানুভূতি ভালবাসা ও সেবার মানসিকতা নিয়ে ঔদ্ধত্য বর্জন করে ডাক্তারদের মানুষকে পরিষেবা দিতে বলেন।

পাশাপাশি তিনি বলেন ডাক্তারদের মানুষ বিশেষ মর্যাদা দেয়। এই মর্যাদা সবাই পায় না, সব পেশার মানুষকে মানুষ এত সম্মান করে না। তাই অর্থের পেছনে না ছুটে মানুষের সেবা করুন দেখবেন একদিন অর্থ আপনাদের পেছনে ছুটবে।

সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যে নতুন বাংলার স্বপ্ন আমরা সবাই মিলে দেখছি, তার কান্ডারী আপনারা। আপনারা যখন আরো বড় হবেন শুধু নিজের কথা না ভেবে সমাজ রাষ্ট্র যে বা যাঁরা আপনাদের মানুষ করেছেন তাদের কথা ভাবুন। সমাজের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার কথা চিন্তা করুন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*