রোজদিন ডেস্ক : বাংলাদেশে “চামচা পুঁজিবাদী অর্থনীতি” প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মন্তব্য করেছেন। এর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই পুঁজিবাদে কিছু চামচা তৈরি হয়। তারা দেশে লুটপাটতন্ত্র ও চোরতন্ত্রে পরিণত করেছে। রাষ্ট্রর পুরো কাঠামোকে তারা এক্ষেত্রে ব্যবহার করছে, তারা সব সময়ই সংস্কার বিরোধী বলে তিনি মন্তব্য করেন। তারা কারা সেই বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি, তবে জানান, এই সংস্কার বিরোধী জোট ভাঙতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে হবে।
দেশে সংস্কারের পক্ষে জোরালো সওয়াল করে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে ও দেশকে মধ্যম আয়ের স্তরে এগিয়ে নিতে হলে সংস্কার অপরিহার্য। এই বিষয়টি রাজনীতিবিদরাও উপলব্ধি করবেনও তাঁদের ইস্তাহারে তার প্রতিফলন হবে বলে আশা করেন তিনি। বলেন, বর্তমান সরকার একা সব করতে পারবে না, আগামী দিনের সরকারকেও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
মহম্মদ ইউনুস এর প্রশংসা করে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, উনি যে উৎসাহ ও আগ্রহ নিয়ে শ্বেতপত্র ও বিভিন্ন টাস্ক ফোর্স রিপোর্ট তৈরি করেছিলেন, তাঁর সহযোগীরা ও আমলাতন্ত্র বেশি দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি।
এই সরকার কিছু কাজ করেছে, কিছু করতে পারেনি। এখন তাদের হাতে যেটুকু সময় আছে, তার মধ্যে কি কি তারা করে যাবে তা বলা উচিত। সেই স্বচ্ছতাই তাঁরা চান।
প্রসঙ্গত আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা আছে।
অতীতে দেশে কেবল দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে জানিয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, স্কুল কলেজের শুধু ইমারত হয়েছে, শিক্ষক ও পড়ুয়াদের মান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কারও নাম না করে তিনি বলেন, দেশে একটি গোষ্ঠী গড়ে উঠেছিল, যা দৃশ্যমান বিভিন্ন প্রকল্প নিতে সহায়তা করেছিল।
তবে সংস্কার প্রণয়ন করা যত সহজ, বাস্তবায়ন করা অত সহজ নয়। এখনকার সরকার অন্তর্বর্তীকালীন, কিছু সময় রূপান্তরকালীন, এই রূপান্তরের পথে তাঁদের এগোতে হবে বলে তিনি জানান। আজ সিলেটের অর্থনীতি সংক্রান্ত এক সভায় এই সব বলেন তিনি।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মোস্থাফিজুর রহমান বলেন, অতীতের রাজনৈতিক দলগুলি অনেক আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু তার বাস্তবায়ন পাননি তাঁরা। তবে পরিবর্তনের আশা তাঁদের আছে। দেশের ভবিষ্যৎ অতীতের মত হবে না বলে আশা তাঁর। সবার মতামত নিয়ে তাঁরা একটি নাগরিক ইস্তাহার তৈরি করবেন বলেও তিনি জানান।

Be the first to comment