নদিয়ায় এসআইআর ডিজিটাইজেশন জোরকদমে, শুনানির তালিকায় দেড় লক্ষের বেশি ভোটার

Spread the love

রমিত সরকার, নদীয়া : নদিয়ায় এসআইআর ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ এখন প্রায় শেষ লগ্নে। জেলা প্রশাসনের লক্ষ্য— আর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়াটা গুটিয়ে ফেলা।

মঙ্গলবার বিকেলের হিসেব বলছে, জেলার মোট ৪৪ লক্ষেরও বেশি ভোটারের মধ্যে অনলাইনে আপলোড হয়েছে প্রায় ৩০ লক্ষ ফর্ম। শতাংশে বললে, প্রায় ৬৮। প্রশাসনের মতে, ডিজিটাইজেশনের গতি মোটামুটি ঠিক দিকেই এগোচ্ছে। জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত জানান, কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়ে গেছে, বাকি অংশও সপ্তাহখানেকের মধ্যেই সেরে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে আরেকটা বিষয় চোখে পড়ার মতো— বিএলও অ্যাপে দেখা যাচ্ছে প্রায় দেড় লক্ষ ভোটারকে শুনানিতে হাজির হতে হতে পারে। কারণ তাঁদের ডেটা ম্যাপিং করা যায়নি। সরাসরি ম্যাপ হয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ ভোটারের, অভিভাবকের মাধ্যমে ম্যাপ হয়েছে আরেক ৩০ শতাংশ। শুনানির চূড়ান্ত তালিকা বেরোতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

জেলায় মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত ও ডুপ্লিকেট মিলিয়ে বাদ পড়তে চলা ভোটারের সংখ্যা ইতিমধ্যেই পঞ্চাশ হাজার ছুঁইছুঁই। শুধু মৃত ভোটারই পাওয়া গিয়েছে ৩৭ হাজারের বেশি। এর বেশিরভাগই নদিয়া দক্ষিণের কয়েকটি বিধানসভায়— রানাঘাট দক্ষিণ, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব, কল্যাণী ও চাকদহে। অনুপস্থিত ভোটার মিলেছে আড়াই হাজারের বেশি, স্থানান্তরিত প্রায় ১৪ হাজার, আর ডুপ্লিকেট ভোটার এক হাজারের কাছাকাছি। ডিজিটাইজেশন পুরোপুরি শেষ হলে এই সংখ্যাটা আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে।

ফর্ম বিতরণ নিয়েও কিছু অসঙ্গতির কথা সামনে এসেছে। জেলার ৪৪ লক্ষ ৯ হাজার ৯৫১ জন ভোটারের কাছে ফর্ম দেওয়ার কথা থাকলেও, অ্যাপ অনুযায়ী ফর্ম পাননি প্রায় ৯ হাজার। প্রশাসনের যুক্তি— এদের একাংশকে বিএলওরা ঘরে পাননি, আবার কারও নামই এখনও অ্যাপে আপলোড হয়নি। শুরুতে নিয়ম ছিল— বাড়িতে কাউকে না পেলে ফর্ম রেখে এলেই কর্তব্য শেষ। পরে কমিশন নির্দেশ বদলায়— টানা তিনবার না পেলে বাড়ির দরজায় নোটিশ টাঙিয়ে তার ছবি তুলতে হবে।

সব মিলিয়ে জেলার প্রশাসন এখন পুরোপুরি ডিজিটাইজেশনের কাজ শেষ করায় মন দিচ্ছে। শুনানি, বাদ দেওয়া, আপলোড— সব প্রক্রিয়া মিলিয়ে আগামী সপ্তাহটাই নদিয়ার এসআইআর কর্মযজ্ঞের জন্য সবচেয়ে ব্যস্ত সময় হতে চলেছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*