ছুটির দিনে আর মজুরি নয়— কৃষ্ণনগর পুরসভার কোষাগার বাঁচাতে কঠোর নির্দেশ, আজ থেকেই কার্যকর

Spread the love

রমিত সরকার, নদীয়া:
কৃষ্ণনগর পুরসভায় কাজের নিয়মে বড় রদবদল। প্রশাসকের নতুন নির্দেশে ছুটির দিনে আর বেতন নয়—শুধু কাজ করলে মিলবে মজুরি। পুরসভার কোষাগারের টানাপোড়েন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত আর এড়ানো সম্ভব হয়নি। আর এ নিয়েই পুরসভা মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

কেন এত কড়া সিদ্ধান্ত?
পুরসভা সূত্র বলছে, গত দশ মাস ধরে রাজস্ব আদায় আশানুরূপ হয়নি। ফলে কোষাগার কার্যত হিমশিম খাচ্ছে। বেতন চালাতে হয়েছে পুরসভার সেভিংস টেনে। মাসে মোট বেতনের খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে কেবল ক্যাজুয়াল কর্মীদের বেতনেই যায় ৬৬ লক্ষ। আয় যখন কমছে, তখন খরচ ছাঁটাইই ছিল একমাত্র উপায়।

নতুন অর্ডার কার্যকর ১ ডিসেম্বর থেকে
২৭ নভেম্বর প্রশাসক ও সদর মহকুমাশাসক শারদ্বতী চৌধুরী একটি নির্দেশ জারি করেন। সেখানেই স্পষ্ট বলা হয়েছে— ছুটির দিনে কাজ না করলে অর্থপ্রদান হবে না। অর্থাৎ রবিবার বা ঘোষিত ছুটির দিনে কর্মী যদি কাজে না আসেন, বেতন মিলবে না।
সব বিভাগে ইতিমধ্যেই ওই অর্ডার পাঠানো হয়েছে।

কর্মী সংখ্যা নিয়ে প্রশ্নের পাহাড়
কৃষ্ণনগর পুরসভায় মোট কর্মী ১৩২৬ জন। এর মধ্যে স্থায়ী মাত্র ২৯১ জন— বাকি সবাই ক্যাজুয়াল।
এখানে বড় সমস্যা হচ্ছে ২০১৯ সালের ১৩ আগস্ট ইউডিএমএ দফতরের নির্দেশ। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছিল— ডিপার্টমেন্টের অনুমতি ছাড়া নতুন কর্মী নিয়োগ করা যাবে না। অভিযোগ, সেই নির্দেশ উপেক্ষা করেই গত কয়েক বছরে পুরসভায় প্রায় ৩০০ ক্যাজুয়াল স্টাফ নেওয়া হয়েছে।
ক্যাজুয়ালদের নথিপত্র নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। এমনকি কোথাও কোথাও এক কর্মী দু-জায়গা থেকে বেতন নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

পুরসভার অভ্যন্তরে ‘ভূতুড়ে কর্মী’ থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর আগে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সিবিআইও তদন্ত করেছে। বহুতলের প্ল্যান পাস থেকে মিউটেশন—একাধিক ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতা নিয়ে জনমত উত্তাল হয়েছে। এবার বেতনের নিয়ম বদলের সিদ্ধান্ত সেই পুরনো বিতর্ককেই নতুন করে সামনে আনছে।

রাজনৈতিক টানাপোড়েনও কম নয়
তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত কৃষ্ণনগর পুরসভা দীর্ঘদিন ধরেই গোষ্ঠী সংঘাতের জেরে অচলাবস্থায় পড়েছিল। ফলে পরিষেবা ভেঙে পড়ে ক্ষুব্ধ হন সাধারণ নাগরিকরা।
পরিস্থিতি সামলাতে দলীয় নেতৃত্বকে একাধিকবার হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বোর্ড ভেঙে যায় এবং নরেশ দাস ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। পরে রাজ্য সরকার শারদ্বতী চৌধুরীকে পুরপ্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, “ক্যাজুয়াল স্টাফদের ৩১ দিনের বেতন দেওয়া কোথাও নিয়ম নয়। এখানেই দেওয়া হত। পুরসভার কোষাগারের অবস্থাটা দেখার পর বুঝলাম, পরিবর্তন আনা ছাড়া উপায় নেই। সরকারি নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

পুরসভার শোচনীয় আর্থিক অবস্থায় এই নতুন নির্দেশ সাময়িক চর্চার জন্ম দিলেও প্রশাসনের আশা—এতে অন্তত ব্যয়ের লাগাম টানা যাবে। তবে ক্যাজুয়াল কর্মীদের ওপর এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনই স্পষ্ট নয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*