সুস্মিতা রায় :
বন্দেমাতরম নিয়ে আলোচনায় দিল্লির সংসদ যখন উত্তপ্ত, তখন রাজ্যের শাসকদের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন বঙ্কিম চন্দ্র চ্যাটার্জির উত্তরসূরী সজল চ্যাটার্জি।
তাঁর কথায়, বঙ্কিম চন্দ্র চ্যাটার্জি এক প্রতীকি নাম। স্বাধীনতা পূর্ব যুগে তিনি ব্রিটিশ শাসকদের ওপর চাপ তৈরি করে রেখেছিলেন। কিন্তু এই রাজ্যের কোন সরকারই এই অমর কথা সাহিত্যিককে গুরুত্ব দেয়নি। সে তা বহু আগের কংগ্রেসই হোক, বা রাজ্যের বর্তমান শাসক। রীতিমত আক্ষেপ করে তিনি বলেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই ওঁরা বঙ্কিম চন্দ্র চ্যাটার্জির নাম নেয়।
পরন্তু বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, মাঝে মধ্যে খোঁজ খবর নেন বলে তিনি স্বীকার করেন।
সজল চ্যাটার্জি জানান, ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ তাঁদের কলকাতার বাড়িতে এসেছিলেন। তখন এখানে কোন নির্বাচন ছিল না। উনি তাও আসায় তাঁরা যে খুশি, আপ্লুত তার ইঙ্গিত মেলে।
বরং এই রাজ্য সরকারের মানসিকতা তিনি বুঝতে পারেন না বলে জানান।
কেন রাজ্যের প্রতি তাঁর ক্ষোভ, তারও ব্যাখ্যা মেলে সজল চ্যাটার্জির কথায়।
তাঁদের ইচ্ছা, এখানে বঙ্কিম ভবন ও বঙ্কিম বিশ্ববিদ্যালয় হোক। সংসদে প্রথমে জাতীয় সংগীত হয়, তারপর বন্দেমাতরম-এর সুরে বাদ্যযন্ত্র বাজে। কেন তা গাওয়া হয় না, প্রশ্ন তোলেন তিনি।
উল্লেখ্য, বন্দেমাতরমের সার্ধশতবর্ষ পালনে নানা উদ্যোগ নিয়েছে বিজেপি, বিশেষত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ সংসদে আলোচনার মূল হোতাও তিনি। এই বিষয়ে আলোচনার সূচনা করে বঙ্কিম চন্দ্র চ্যাটার্জির রচনার প্রশংসায় মুখর হয়েছেন তিনি। সঙ্গে তোপ দেগেছেন কংগ্রেসকে।
তাঁর এই বঙ্কিম চন্দ্র প্রেম যে এই রাজ্যের আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে, এই নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বক্তব্যর মর্মার্থ আছে।
আজ বন্দেমাতরম নিয়ে আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী বঙ্কিম চন্দ্র চ্যাটার্জিকে বঙ্কিমদা বলে সম্বোধন করেন, যা নিয়ে আপত্তি করেন শাসক দলের সাংসদ সৌগত রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার প্রমুখ। সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র-কে এই ভাবে উল্লেখ করাকে তাঁরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিরোধী বলেই মনে করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে একাধিকবার গান্ধীজি, নেহরু, নেতাজি, এমন কি জিন্নার নাম উল্লেখ করলেও ঋষি অরবিন্দ প্রমুখের কথা শোনা যায়নি। এমনকি শ্রী রামকৃষ্ণর কথাও তোলেন নি।
রাজ্যের এই মনীষীরা কতটা বঙ্কিম চন্দ্র কে শ্রদ্ধা করতেন তা এখন ইতিহাস। রামকৃষ্ণর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাত ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা সম্পর্কর কথাও আলোচনায় এসেছে বলে জানা নেই।
তাঁর নামে সরকারি সাহিত্য পুরস্কারও আছে।
রাজনৈতিক মহল মনে করেন, এই রাজ্যে ক্ষমতার স্বাদ পেতে মরিয়া কেন্দ্রের শাসক দল সাহিত্য সম্রাটের উত্তরসূরীদের সঙ্গে আরও যোগাযোগ বৃদ্ধি করবে।

Be the first to comment