এসআইআর নিয়ে ভীত বিরোধীরা, তোপ অমিত শাহের, আক্রমণ কংগ্রেসকেও, রাহুলের সঙ্গে বিতন্ডায় তপ্ত সংসদ

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : বিরোধীরা যতই বিরোধিতা করুন, এসআইআর হবেই বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ আজ সাফ জানিয়েছেন। দেশে অনুপ্রবেশ তাঁরা কোনভাবেই বরদাস্ত করবেন না। তাঁদের নীতি হল, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা, নাম (ভোটার তালিকা থেকে) বাদ দেওয়া ও তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া। বিরোধীদের তোপ দেগে অমিত শাহ বলেন, ওঁদের নীতি হল অনুপ্রবেশ স্বাভাবিক করা, তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়া, ভোটের সময় ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত
করা, এই হল ওদের কাজ! যা তাঁরা কিছুতেই করতে দেবেন না।
আজ নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে লোকসভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই সব বলেন। নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া বিতর্কের জেরে আজও সভাকক্ষে উত্তাপ ছড়ায়। বিশেষত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর বক্তব্য রাখার সময়ে বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর রীতিমত বাগযুদ্ধ চলে। এক সময় রাহুল গান্ধী কে “পাপ্পু ” বলতেন অমিত শাহ ও তাঁর দল, বহুদিন হল সেই সম্ভাষণ থেকে সরে এসেছেন তাঁরা। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানান অমিত শাহ। নেহরুর প্রধানমন্ত্রী হওয়া থেকে শুরু করে দেশের নাগরিক হওয়ার আগে সোনিয়া গান্ধী ভোটার তালিকায় নাম তুলেছিলেন ইত্যাদি একের পর এক তোপ দাগেন। কংগ্রেস সাংসদরা এর তীব্র প্রতিবাদে মুখর হন। অমিত শাহ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই কংগ্রেস ভোট চুরি করছে। প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ২৮ টি ভোট পেয়েছিলেন, নেহরু পেয়েছিলেন মাত্র ২টি।
তবু নেহরুই প্রধানমন্ত্রী হন, এটিই প্রথম ভোট চুরি। প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, সোনিয়া গান্ধীও ভোট চুরি করেছেন বলে তোপ দাগেন অমিত শাহ। দেশের নাগরিক
হওয়ার আগেই সোনিয়া গান্ধী ভোটার হন বলে জানান। কংগ্রেস সাংসদ বেনুগোপাল সহ অন্যরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান৷
কংগ্রেস, বিরোধীদের নানা বিষয়ে অমিত শাহ তীব্র আক্রমন শানানোর মাঝে তাঁরা সভাকক্ষ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের নিশানা করে অমিত শাহ বলেন, ওঁরা যতবার খুশি সভাকক্ষ বয়কট করুন, এই দেশে একজন অনুপ্রবেশকারীকেও ভোট দিতে দেয়া হবে না। রাহুল গান্ধী তাঁর বক্তব্য নিয়ে জবাব চাইলে পালটা তিনি বলেন, “আপনার ইচ্ছামত সংসদ চলবে না, আমি কি বলব তা আমি সিদ্ধান্ত নেবো।”

তাঁর ভাষণের মাঝেই বিরোধীরা সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।
পরে রাহুল গান্ধী বলেন, ভোট চুরি নিয়ে তাঁর কোন প্রশ্নেরই উত্তর দেননি অমিত শাহ৷ হরিয়ানায় ব্রাজিলের মডেলের ছবি ব্যবহার করে এক মহিলা ২২ বার ভোট দিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নেরও উত্তর মেলেনি।
নির্বাচন সংস্কার, এসআইআর নিয়ে আজ লোকসভার অভ্যন্তর একাধিকবার তপ্ত হয়ে ওঠে।
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন এসআইআর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে। বিজেপি যতই এসআইআর করুক, বাংলায় ভোটে জিততে কোন সাহায্য করবে না। তাঁদের নেত্রীর (মমতা ব্যানার্জি) সামনে বিজেপি কিছুই করতে পারবে না।
সমাজবাদী সাংসদ ডিম্পল যাদব নির্বাচনে ফের ব্যালট পত্র ফেরানোর দাবি করেন। ডিএমকে-র সাংসদ টি এম সেলভাগণপতি এসআইআর-কে বেআইনি বলে মন্তব্য করেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*