রোজদিন ডেস্ক : এসআইআর নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা যাবে তো, আশঙ্কাটা কিন্তু ক্রমশ বাড়ছে। একে তো ঢিমেতালে চলছে শুনানি। খোদ কমিশনের তথ্যই বলছে এখনও লক্ষ লক্ষ লোকের শুনানি বাকি। তার মধ্যে এসআইআর শেষ হওয়ার সময় যত এগিয়ে আসছে ততই বাড়ছে বিএলওদের ক্ষোভ। ক্ষোভের জেরে এবার গণ ইস্তফা দিতে শুরু করেছেন তাঁরা। দায়ী করছেন কমিশনকে। বলছেন, কমিশন এক এক সময় এক একরকম নির্দেশ দিচ্ছে, ফলে কখন কী করতে হবে তাঁরা বুঝতে পারছেন না। চাপে পড়ে বিএলওদের আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। এই চাপের মধ্যে পড়েই বিভিন্ন জায়গায় বিএলওরা গণইস্তফা দিতে শুরু করেছেন। শনিবার নন্দীগ্রামের ২ ব্লকে গণইস্তফা দিয়েছেন ৭০ জন বিএলও। ১০৭ বিএলওর মধ্যে এই ৭০ জন বিডিওর কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন। বীরভূমের ইলামবাজার বিডিও দফতরে গিয়ে একযোগে ৭০ জন ইস্তফা দেন। আগের দিন উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের প্রায় ২০০ জন বিএলও একসঙ্গে ইস্তফা দেন।
উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি থেকেও বিএলওদের বিক্ষোভের খবর এসেছে। অভিযোগ, শুরুতে তাঁদের দায়িত্ব ছিল ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের ডেকে শুনানি এবং তথ্য যাচাই করা। সেই কাজ শেষ করার পর হঠাৎ ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নামে কোথাও বাবা-মায়ের নামের অমিল, কোথাও পরিবারের সদস্য সংখ্যা ইত্যাদি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য পাঠানো হচ্ছে। এমনকী কার কত সন্তান, পরিবারে অতিরিক্ত সদস্য কত ইত্যাদিও জানতে নির্দেশ দিচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ছেন বিএলওরা। কোথাও মানসিক ও শারীরিক হেনস্থাও করা হচ্ছে তাঁদের। বিএলওদের দাবি, হোয়াটস অ্যাপে পাঠানো কোনও মৌখিক নির্দেশ তাঁরা আর মানবেন না। বিডিও-র তরফে লিখিত ও স্পষ্ট নির্দেশিকা না পাওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

Be the first to comment