রোজদিন ডেস্ক : সময় করে একদিন চলে আসুন। বাবরি মসজিদের কাজ শুরু হচ্ছে, এসে দেখে যান। বর্তমানে জনতা উন্নয়ন পার্টির সুপ্রিমো তথা মুর্শিদাবাদের ভরতপুর বিধানসভার তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের আমন্ত্রণ আর এক হুমায়ুন কবীরকে। সম্প্রতি বাবরি মসজিদের কাজ শুরুর আগে ফোনে এমনই এক নিমন্ত্রণ পেয়েছেন ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস ডঃ হুমায়ুন কবীর। ফোনে বেলডাঙ্গা যাওয়ার আমন্ত্রনের কথা স্বীকারও করেছেন ডেবরার বিধায়ক। যে ঘটনা রাজ্য রাজনীতির এখন অন্যতম চর্চার বিষয়। জানা গিয়েছে, গত বুধবার হুমায়ুন ফোন করেছিলেন ডেবরার বিধায়ককে। এই নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ভরতপুরের বিধায়ক বলেন, দু’দিন আগে আমি ফোন করেছিলাম। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি মসজিদ তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। ওঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। কাজ দেখার জন্য। তিনি জানান, সময় পেলে আসবেন। গোটা বিষয়টা স্বীকার করে নিয়ে ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, আমন্ত্রন পেয়েছি, দেখা যাক, এখনও দেরি আছে। এরপর ভরতপুরের বিধায়কের প্রতিক্রিয়া, উনি এলে ভাল লাগবে। ফলে বাবরি মসজিদ নিয়ে ভোটমুখী বাংলায় নয়া সমীকরণের জল্পনা আরও বাড়ল। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হচ্ছে। বেলডাঙ্গার বাবরি মসজিদ নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডঃ হুমায়ুন কবীর বলেন, এটা গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে যে কোনও মানুষেরই অধিকার আছে তাঁর দল গড়ার, প্রচার করার, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার। এগুলো নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। ১১ তারিখ বাবরি মসজিদের কাজ দেখতে যাওয়ার জন্য আমাকে ফোনে নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন উনি। আসতে চেয়েছিলেন। আমি বললাম, দরকার নেই। আপনি ফোনে বললেই হবে। কারণ, আমি ডেবরায় ছিলাম। বাবরি মসজিদ নিয়ে একটা আবেগ রয়েছে মুসলিমদের মধ্যে। এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই। এটা হয়তো পশ্চিম মেদিনীপুরে নেই। আমার মনে হয়, মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, নদিয়া, বসিরহাট কিছুটা বা ভাঙড়ে এই আবেগের কিছুটা প্রভাব আছে। গোটা রাজ্যে এর কোনও প্রভাব পড়বে বলে আমার মনে হয় না। এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ-এর শিলান্যাস করেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। মসজিদ তৈরির জন্য তিনি সকলকে অর্থ সাহায্য করার আবেদনও জানান।
হুমায়ুনের এই ঘোষণার পরেই তাঁর পুরনো দল তৃণমূল তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করে।

Be the first to comment