রোজদিন ডেস্ক : “এরা আমাদের কোনও কথা শুনছে না। এরা বিজেপি যা বলে শুধু তাই শোনে। এমন উদ্ধত নির্বাচন কমিশনার জীবনে দেখিনি। এরা মিথ্যেবাদী। এখানে জমিদারি রাজ কায়েম করেছে। এদের পরিণতি ধনকড়ের মতোই হবে।” কমিশনের বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অপমানিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে বৈঠকে গিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। কিছু সময় পর বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসেন অপমানিত মমতা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বড় আন্দোলনের ইঙ্গিত দেন তিনি। মঙ্গলবার পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন তিনি। বাংলায় এসআইআর নিয়ে প্রথম থেকেই সরব মমতা। নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের হয়ে কাজ করছে, অভিযোগ করেন তিনি। কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ছটি চিঠি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী দিলেও একটি চিঠিরও জবাব কমিশনের তরফে দেওয়া হয়নি। এসআইআর আতঙ্কে বাংলায় ১৫০ জনেরও বেশি মারা গিয়েছেন। এত মৃত্যুর দায় কে নেবে, আরও একবার সেই প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই এসআইআর পুরোটাই অগণতান্ত্রিক, অসংসদীয়। আমি অনেকদিন দিল্লিতে রাজনীতি করেছি। মন্ত্রী ছিলাম, সাংসদ ছিলাম, কোনওদিন এমন ইলেকশন কমিশন দেখিনি যে এত মিথ্যাবাদী, এত আরোগ্যান্ট। জ্ঞানেশ কুমার খুব ভালো মিথ্যেবাদী। অনেক নির্বাচন কমিশনার দেখেছি, কিন্তু, কমিশনকে এরকম তোতাপাখি কেউ বানায়নি। আপনার যদি এসআইআর করতেই হত, তাহলে ২০০২ সালের পর এতদিন কেন করলেন না? কেন তিন মাসে করলেন? যদি করতেই হত, যে রাজ্যগুলিতে ভোট হচ্ছে, সেগুলি ছাড়া অন্য রাজ্যে করতেন। ভোট হয়ে গেলে তারপর ধীরেসুস্থে করতেন। বাংলাকে বারবার কেন টার্গেট করা হচ্ছে? ওঁদের বলেছি আমরা আপনাদের চেয়ারকে সম্মান করি। কিন্তু জেনে রাখা ভালো কারও কুর্সি চিরকাল থাকে না। একদিন যেতেই হবে। সীমা খান্না কে? নির্বাচন কমিশনের কেউ না। বিজেপির আইটি সেলের লোক। ৫৮ লক্ষকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু কমিশন এই নিয়ে একটা কথাও বলেনি। ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ছে। এই নিয়ে সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিয়ের পর মেয়েদের পদবি বদল হলে নাম বাদ দিচ্ছে। জীবিতদের মৃত করে দিচ্ছে। ৫৮ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগই দেওয়া হয়নি। আজকে যদি অটলজি বেঁচে থাকতেন, উনি কি জন্ম শংসাপত্র দিতে পারতেন? সাধারণ মানুষ সরকার নির্বাচিত করবে নাকি ভোটের আগে কমিশন সরকার ঠিক করবে? এই বিজেপি কতদিন থাকে আমরা দেখবো। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও এরা মানছে না, বিজেপির দালাল। আমাদের সঙ্গে চাকর বাকরের মতো আচরণ করছে।

Be the first to comment